রাজ্যের খবর

বাণিজ্য সম্মেলনের নামে ৬৩৫ কোটির কেলেঙ্কারি! মমতার সাধের ‘BGBS’-এ তদন্তের হুংকার শুভেন্দুর

বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের ৬৩৫ কোটিতে বিরাট দুর্নীতি? মমতা জমানার মেগা খরচে সিআইডি তদন্তের হুংকার শুভেন্দুর!

Truth of Bengal: পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে বছরের পর বছর ধরে ঢাকঢোল পিটিয়ে আয়োজিত হয়েছে ‘বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন’ বা BGBS। দেশ-বিদেশের তাবড় শিল্পপতিদের এনে এলাহী আয়োজন করতে গিয়ে খরচ করা হয়েছে কোটি কোটি টাকা। প্রতিবারই সম্মেলন শেষে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করতেন, বাংলায় লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ আসছে। অথচ বাস্তবে তার সিকিভাগও বাস্তবায়িত হয়নি, রাজ্যে বাম আমলের সেই চেনা ‘শিল্পখরা’ই বজায় থেকেছে। ছাব্বিশের ঐতিহাসিক পালাবদলের পর এবার সেই সমস্ত ফাঁপা খতিয়ানের হাটে হাঁড়ি ভাঙতে কোমর বেঁধে নামল নতুন বিজেপি সরকার। শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বাণিজ্য সম্মেলনের নামে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের পেছনে ওড়ানো ৬৩৫ কোটি টাকার পাই-পাই হিসেব নেওয়া হবে এবং এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে।

“কাউকে ছাড়ব না, পুষ্পাদের অবস্থা তো দেখছেন!”

কেন্দ্রে মোদি সরকারের সাফল্যের এক যুগ পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই হাই-প্রোফাইল সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পূর্বতন সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, “বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন করতে গিয়ে শুধুমাত্র ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থাকেই ৬৩৫ কোটি টাকা পাইয়ে দিয়ে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই অপচয় আমি কিছুতেই ছাড়ব না।” এই প্রসঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী আবার ফলতা এসইজেড-এর জেরায় জেরবার তৃণমূলের শীর্ষ ‘সেনাপতি’ ও তাঁর অনুগামীদের ইঙ্গিত করে বলেন, “পুষ্পাদের অবস্থা তো এখন সবাই দেখতেই পাচ্ছেন। সবকিছুর তদন্ত হবে।”

ভুয়ো নয়, এবার ‘যাচাই’ করে বাংলায় আসবে আসল শিল্প

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ভুয়ো বা স্রেফ মুখ দেখানোর বিনিয়োগকারী নয়, ডবল ইঞ্জিনের বাংলায় এবার প্রকৃত শিল্পায়ন হওয়াই একমাত্র লক্ষ্য। তাঁর কথায়, “শিল্প এবং বাস্তব বিনিয়োগ ছাড়া একটা রাজ্যের প্রকৃত উন্নয়ন বা রাজস্ব বৃদ্ধি সম্ভব নয়। আমাদের বর্তমান শিল্পদফতরের টিম অত্যন্ত দক্ষ। ইতিমধ্যে আমার কাছে বহু বড় বড় প্রজেক্টের প্রস্তাব এসেছে। সেগুলিকে দ্রুত খতিয়ে দেখে সবুজ সংকেত দেওয়ার জন্য শিল্পসচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের টিম গঠন করে দিয়েছি।”

তবে এবার শিল্পপতিদের বাংলায় জমি বা পরিকাঠামো দেওয়ার আগে তাঁদের পুঙ্খানুপুঙ্খ ‘ব্যাকগ্রাউন্ড ভেরিফিকেশন’ বা যাচাই করতে চায় নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, “যাঁরা বাংলায় আসছেন, তাঁরা কী কারণে আসছেন, সত্যিই কারখানা তৈরি করতে চান নাকি স্রেফ সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসছেন, তা খতিয়ে দেখা হবে। অতীতে তাঁদের বিরুদ্ধে জমি কিংবা অর্থ তচ্ছরুপের কোনও কালো ইতিহাস আছে কিনা, সেটাও আমরা আগে দেখে নিতে চাই।” ছোট, মাঝারি ও ভারী শিল্পের যুগলবন্দিতে কর্মসংস্থান তৈরি করে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরানো এবং বেকার সমস্যার স্থায়ী সমাধান করাই যে তাঁর সরকারের একমাত্র পাখির চোখ, তা এদিন ফের মনে করিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

Related Articles