রাজ্যের খবর

“উত্তরকন্যায় একাধিক দপ্তরের কাজ হবে!” শিলিগুড়ি থেকে উত্তরবঙ্গবাসীকে বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

এদিন সন্ধ্যায় বহু প্রতীক্ষিত উড়ালপুলটির উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী

Truth of Bengal:  উত্তরবঙ্গের মানুষের সরকারি পরিষেবা আরও সহজ করতে উত্তরকন্যায় একাধিক দপ্তরের কাজ চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার। সোমবার শিলিগুড়ি-বর্ধমান রোডের উড়ালপুল উদ্বোধন করে এই ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, উত্তরবঙ্গের মানুষকে আর বিভিন্ন সরকারি কাজের জন্য বারবার কলকাতায় ছুটতে হবে না। এদিন সন্ধ্যায় বহু প্রতীক্ষিত উড়ালপুলটির উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত-সহ রাজ্য সরকারের একাধিক প্রতিনিধি। মঞ্চে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখার পর দুই মন্ত্রীকে পাশে নিয়ে ফিতে কেটে সেতুর উদ্বোধন করেন শুভেন্দু। পরে অতিথিদের সঙ্গে উড়ালপুলের উপর দিয়ে হেঁটেও যান তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে কেন্দ্র ও রাজ্যের টানাপোড়েনের কারণে উত্তরবঙ্গের বহু উন্নয়নমূলক প্রকল্প থমকে ছিল। বর্তমানে রাজ্যে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার থাকায় রাস্তা, রেল, বিমানবন্দর এবং প্রশাসনিক পরিকাঠামোয় দ্রুত উন্নয়ন সম্ভব হবে বলে দাবি করেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এতদিন উত্তরবঙ্গকে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর উত্তরবঙ্গ থেকে মোট ১০ জনকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে উত্তরবঙ্গে আরও নতুন রাস্তা ও রেল প্রকল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।চিকেনস নেকের কৌশলগত গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থাও শক্তিশালী করার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য বাজেটে উত্তরবঙ্গের জন্য বরাদ্দ দ্বিগুণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। আগামী দিনে হাঁসিমারা ও বাগডোগরা বিমানবন্দরের সম্প্রসারণের কাজও শুরু হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

সোমবার সকালে উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে প্রথমে জলপাইগুড়িতে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। সিকিমের সুড়ঙ্গ দুর্ঘটনায় নিহত বাংলার ১১ জন শ্রমিকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। স্বজনহারা পরিবারগুলির হাতে আর্থিক সাহায্য তুলে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। এরপর দুপুরে শিলিগুড়ি পৌঁছে উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠক করেন শুভেন্দু। সেই বৈঠকের পরই উত্তরকন্যা থেকে আরও একাধিক সরকারি দপ্তরের পরিষেবা চালুর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, উত্তরবঙ্গের বাসিন্দাদের বহু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কাজের জন্য কলকাতায় যেতে হয়। এতে তাঁদের সময় ও অর্থ—দুই-ই ব্যয় হয়। সেই সমস্যা দূর করতেই উত্তরকন্যাকে আরও পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলা হবে। মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি।

Related Articles