রাজ্যের খবর

২৬ বগির ট্রেনও দাঁড়াবে অনায়াসে! হাওড়ায় চালু হল সবচেয়ে দীর্ঘ ২৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম

হাওড়া স্টেশনে যাত্রীদের জন্য বিরাট সুখবর! ২.৬৯ কোটি খরচে তৈরি নয়া প্ল্যাটফর্মে কী কী চমক?

Truth of Bengal: হাওড়া স্টেশনে ঢোকার মুখে বা আউটারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সিগন্যালে ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকা নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছিল যাত্রীদের কাছে। কিন্তু এবার সেই দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা মেটাতে বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল ভারতীয় রেল। হাওড়া স্টেশনের যাত্রী পরিষেবা আরও মসৃণ করতে সোমবার থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়ে গেল একদম নতুন ২৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম। সপ্তাহের শুরুতেই এই মেগা প্ল্যাটফর্ম চালু হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন নিত্যযাত্রী থেকে দূরপাল্লার যাত্রীরা।

এতদিন পর্যন্ত হাওড়া স্টেশনের সবচেয়ে দীর্ঘতম প্ল্যাটফর্ম ছিল ৯ নম্বর প্ল্যাটফর্মটি। তবে যাত্রীর চাপ ও ট্রেনের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় ওই একটি প্ল্যাটফর্ম যথেষ্ট ছিল না। সেই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই নতুন ২৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম তৈরির সিদ্ধান্ত নেয় রেল প্রশাসন। বর্তমানে এটিই হাওড়া স্টেশনের সবচেয়ে দীর্ঘ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। প্রায় ৬৩৫ মিটার দীর্ঘ এই সুবিশাল প্ল্যাটফর্মে অত্যন্ত অনায়াসে দাঁড়িয়ে যেতে পারবে অন্তত ২৬টি বগির মেগা ট্রেন। রেল সূত্রের খবর, মূলত দূরপাল্লার দীর্ঘ ট্রেনের চাপ সামলাতেই প্রায় ২.৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ে এই পরিকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে।

তবে কেবল ২৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম তৈরিই নয়, হাওড়া ডিভিশন সূত্রে জানানো হয়েছে যে ১০-১১, ১২-১৩ এবং ১৬ নম্বর প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য সম্প্রসারণের কাজও জোরকদমে চলছে। পাশাপাশি ট্রেন চলাচলকে আরও নিখুঁত ও নিরাপদ করতে বসানো হচ্ছে অত্যাধুনিক ‘রুট রিলে ইন্টারলকিং’ ব্যবস্থা।

হাওড়া ডিভিশনের ডিআরএম জানান, দক্ষিণ-পূর্ব রেল এবং পূর্ব রেলের লাইন সংযোগের কাজ চলমান থাকার কারণেই বর্তমানে ট্রেন ঢুকতে ও বের হতে কিছুটা সময় লাগছে। এই জংশন পয়েন্টের কাজ সম্পূর্ণ হলেই হাওড়ায় ট্রেন লেটের চিরচেনা সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।

রেল দপ্তরের তরফে আরও জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই তারকেশ্বর, লিলুয়া, আজিমগঞ্জ, ডানকুনি, রামপুরহাট ও কাটোয়া স্টেশনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আধুনিকীকরণের কাজ শেষ হয়েছে। যাত্রী সুবিধার কথা মাথায় রেখে হাওড়া, সাঁইথিয়া, বালি, রিষড়া, বেলুড়, শেওড়াফুলি, চন্দননগর ও ব্যান্ডেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলিতে নতুন লিফট বসানোর কাজও পর্যায়ক্রমে হাতে নেওয়া হচ্ছে। রেলের এই মেগা পরিকল্পনায় আগামী দিনে যাত্রাপথ যে অনেক বেশি আরামদায়ক হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

Related Articles