মার্চের পর মেলেনি এক টাকাও, ধার করে চালাচ্ছেন শিক্ষকরা! রাজ্যে মিড-ডে মিল নিয়ে তৈরি বড়সড় সংকট
কেন থমকে পিএম পোষণের ১৮০০ কোটি টাকা? কেন্দ্রের ভরসায় হাঁসফাঁস করছে বঙ্গ শিক্ষক সমাজ!
Truth of Bengal: অর্থাভাবের জেরে চরম সঙ্কটের মুখে রাজ্যের মিড-ডে মিল বা ‘পিএম পোষণ’ প্রকল্প। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, স্থানীয় মুদির দোকানিদের বকেয়া টাকা মেটাতে না পেরে শেষ পর্যন্ত মুখ লুকাতে বাধ্য হচ্ছেন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষকেরা। হাওড়া জেলার বালি জগাছা ব্লক-সহ রাজ্যের একাধিক প্রান্তে এখন একই করুণ ছবি ফুটে উঠছে। গত মার্চ মাসের পর থেকে সরকারি বরাদ্দ না আসায়, স্থানীয় দোকান থেকে ধার করেই বিগত চার মাস ধরে খুদে পড়ুয়াদের দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
বিকাশ ভবন সূত্রের খবর, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের মে মাসে পিএম পোষণ খাতের বাজেট বাবদ মোট ১,৮০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। রাজ্য সরকার জুন মাসের শুরুতেই কেন্দ্রের কাছে ওই অর্থ বরাদ্দের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানায়। তবে অভিযোগ, দীর্ঘদিন পার হয়ে জুলাই গড়ালেও কেন্দ্রের তরফ থেকে আজও সেই অর্থ অনুমোদিত হয়ে এসে পৌঁছায়নি। ফলে রাজ্যের হাজার হাজার স্কুলে জমা রাখা অগ্রিম তহবিল এখন প্রায় শূন্যের কোঠায়। দ্রুত কেন্দ্রীয় অর্থ সাহায্য না পৌঁছালে রাজ্যে মিড-ডে মিল পরিষেবা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন শিক্ষা মহল।
যদিও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিকাশ ভবন। স্কুলশিক্ষা দফতরের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বরাদ্দ ইতিমধ্যেই অনুমোদন পেয়েছে এবং রাজ্যের হাতে টাকা পৌঁছলেই সমস্ত বকেয়া মেটানো হবে। তবে তার আগে কোনও অবস্থাতেই একদিনের জন্যও যেন পড়ুয়াদের দুপুরের খাবার বন্ধ না রাখা হয়, সেই নির্দেশ জারি করেছে দপ্তর।
বাস্তব ক্ষেত্রে, যেসব স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা বেশি, সেখানে কিছু পরিমাণ জমানো তহবিল থেকে আপাত কাজ চালানো গেলেও, ছোট ও কম পড়ুয়াসংখ্যার স্কুলগুলোতে সঙ্কট সবচেয়ে তীব্র। হাওড়ার একটি প্রাথমিক স্কুলের প্রধানশিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ইতিমধ্যেই স্থানীয় মুদির দোকানে তাঁর বকেয়া ধারের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকায়। দোকানদারকে দেখলেই এখন লজ্জা ও অনিশ্চয়তায় মুখ লুকোতে হচ্ছে। একইভাবে উত্তরবঙ্গ, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদের একাধিক স্কুলের শিক্ষকরাও জানিয়েছেন, বরাদ্দ না এলে আগামী দিনে এই পরিষেবা সচল রাখা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। চরম বিপাকে পড়া শিক্ষকদের চোখ এখন বিকাশ ভবন ও কেন্দ্রের দিকে।






