কলকাতা

ধর্মীয় উসকানির অভিযোগে বিপাকে মমতা, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দায়ের এফআইআর

ওই ঘটনার জেরে শিলিগুড়ি সহ বিভিন্ন থানায় ইতিপূর্বেই একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছিল

Truth of Bengal: ধর্মীয় উসকানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে এবার আইনি জটিলতায় জড়ালেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার হেয়ার স্ট্রিট থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি নতুন মামলা রুজু করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সম্প্রতি রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ের একটি জনসভা থেকে বাংলাদেশের ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে তাঁর একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে যায়। ওই ঘটনার জেরে শিলিগুড়ি সহ বিভিন্ন থানায় ইতিপূর্বেই একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। সেই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এই নতুন মামলার জেরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অস্বস্তি ও আইনি চাপ আরও বাড়ল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনের সময় একটি রাজনৈতিক প্রচার সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এই নতুন বিতর্ক দানা বেঁধেছে। সেই সভায় তিনি ভোটারদের সতর্ক করে বলেছিলেন যে, তাঁরা ক্ষমতায় আছেন বলেই সকলে সুরক্ষিত ও ভালো আছেন। তাঁরা যদি না থাকেন, তবে পরিস্থিতি বদলে যেতে এক সেকেন্ডও সময় লাগবে না। একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায় বা কমিউনিটি যদি ঐক্যবদ্ধ না হয়, তবে প্রতিপক্ষরা ঘিরে ধরে নিমেষের মধ্যে তাদের চরম ক্ষতি করে দিতে পারে। নিজেদের বড় কোনো বিপদের মুখে ফেলতে না চাইলে বিজেপির অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য তিনি সেই মঞ্চ থেকে আহ্বান জানিয়েছিলেন।

তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। একজন রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান কীভাবে জনসমক্ষে এই ধরনের উসকানিমূলক কথা বলতে পারেন, তা নিয়ে সরব হন বিরোধীরা। এই ধরনের বক্তব্য সমাজে পারস্পরিক বিভেদ ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি করতে পারে বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই এক ব্যবসায়ী হেয়ার স্ট্রিট থানায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৯৬(১), ৩৫১(২) এবং ৩৫২ নম্বর ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।

এর আগেও রানি রাসমণি রোডের সমাবেশ থেকে বাংলাদেশের ওসমান হাদি খুনের ঘটনা নিয়ে নাম না করে মন্তব্য করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বক্তব্য ঘিরেও জলঘোলা কম হয়নি এবং উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি সহ একাধিক জেলাতেও তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওদিকের রানি রাসমণি রোডের ঘটনা এবং এদিকে নির্বাচনের পুরোনো মন্তব্য— এই দুইয়ের জেরে চারদিক থেকে তৈরি হওয়া সাঁড়াশি চাপ ও নতুন করে হওয়া ফৌজদারি মামলা আগামী দিনে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও আইনি লড়াইকে অনেকটাই কঠিন করে তুলল।

Related Articles