রাজ্যের খবর

উপস্থিতি কম থাকলে পরীক্ষায় বসা অনিশ্চিত! রাজ্যের স্কুলে স্কুলে এবার বায়োমেট্রিক হাজিরা?

শিক্ষক নিয়োগ থেকে কোটি টাকার ল্যাব! সরকারি স্কুলের হাল ফেরাতে শিক্ষামন্ত্রীর মেগা ঘোষণা

Truth of Bengal: রাজ্যের সরকারি স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থার চিত্র একসময় নানা বিশৃঙ্খলা ও অচলায়তনে ভরপুর ছিল। কোথাও ক্লাসরুমে পর্যাপ্ত পড়ুয়া নেই, আবার কোথাও প্রয়োজনীয় শিক্ষক-শিক্ষিকার তীব্র অভাব, এমন হরেক অভিযোগে বারবার শিরোনামে এসেছে শিক্ষা দফতর। তবে এবার অতীত পিছনে ফেলে রাজ্যের স্কুলশিক্ষার খোলস একবারে বদলে ফেলতে এবং সার্বিক হাল ফেরাতে একাধিক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। জলপাইগুড়ির এক সভা থেকে এমনই একগুচ্ছ আশাব্যঞ্জক পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিলেন রাজ্যের স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মণ।

রবিবার জলপাইগুড়িতে ‘অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ’-এর জেলা সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, সরকারি স্কুলে পড়ুয়াদের উপস্থিতি বাড়াতে এবং শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে খুব শীঘ্রই ‘বায়োমেট্রিক অ্যাটেনডেন্স’ বা বায়োমেট্রিক হাজিরার ব্যবস্থা শুরু করা হচ্ছে। মন্ত্রীর মতে, এই প্রযুক্তি চালুর ফলে হাজিরা খাতার ওপর শিক্ষক-শিক্ষিকাদের যে অতিরিক্ত চাপ থাকত, তা অনেকটাই কমে যাবে।

একইসঙ্গে পড়ুয়াদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ সাফ জানান, “পড়ুয়াদের একদম শুরু থেকেই সতর্ক ও সচেতন করে দেওয়া হবে। স্কুলে উপস্থিতির হার নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে কম থাকলে কোনওভাবেই পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হবে না।”

পড়ুয়াদের হাজিরার পাশাপাশি শিক্ষক সমস্যা মেটাতেও আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি জানান, রাজ্যের স্কুলগুলিতে যে শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে, তা মেটাতে এবার সঠিক সময়ে স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রয়োজনীয় নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। সেই সঙ্গে প্রাথমিক স্কুলগুলিতে যাতে নূন্যতম ৩ জন করে শিক্ষক রাখা নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে সরকার বিশেষ জোর দিচ্ছে।

এখানেই শেষ নয়, পরিকাঠামোগত উন্নতির জন্য রাজ্যজুড়ে হাজারটি স্কুলে অত্যাধুনিক ল্যাব তৈরির সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এর জন্য প্রতি স্কুল পিছু ২০ লক্ষ টাকা করে বিশাল অর্থ বরাদ্দ করছে রাজ্য সরকার। এছাড়া আপার প্রাইমারি বা উচ্চ প্রাথমিক স্কুলগুলিকে কাছের হাইস্কুলের সঙ্গে যুক্ত করে সমন্বিত করার বিষয়ে সরকার সক্রিয়ভাবে চিন্তাভাবনা করছে। শিক্ষা মন্ত্রীর এই সমস্ত নতুন আশ্বাসে আগামী দিনে রাজ্যের স্কুলশিক্ষার পরিকাঠামো কতটা বদলায়, সেদিকেই তাকিয়ে সব মহল।

Related Articles