রাজ্যের খবর

রাজ্যে পালাবদলের জের! এবার পদত্যাগ করলেন সোনামুখী পুরসভার তৃণমূল চেয়ারম্যান সন্তোষ মুখোপাধ্যায়

পুর আইন মেনে পদত্যাগপত্রের প্রতিলিপি পুরসভার বোর্ড অফ কাউন্সিলরদের কাছেও পাঠানো হয়েছে

Truth of Bengal: আরও এক পুরসভার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন পুরপ্রধান। এবার পদত্যাগ করলেন বাঁকুড়ার সোনামুখী পুরসভার চেয়ারম্যান সন্তোষ মুখোপাধ্যায়। শুক্রবার সকালে বিষ্ণুপুরের মহকুমা শাসকের কাছে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দেন তিনি। পুর আইন মেনে পদত্যাগপত্রের প্রতিলিপি পুরসভার বোর্ড অফ কাউন্সিলরদের কাছেও পাঠানো হয়েছে। তবে আপাতত কাউন্সিলর পদ ছাড়ছেন না বলে জানিয়েছেন সন্তোষ। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তৃণমূল পরিচালিত একাধিক পঞ্চায়েত এবং পুরসভায় পদত্যাগের ঘটনা সামনে আসছে। পঞ্চায়েত প্রধান থেকে শুরু করে পুরসভার চেয়ারম্যান—অনেকেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ কাউন্সিলর পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হল সোনামুখী পুরসভা।

ইস্তফাপত্রে সন্তোষ মুখোপাধ্যায় ব্যক্তিগত কারণ এবং মায়ের শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেছেন। যদিও তৃণমূলের অন্দরের একাংশের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে দলের বিপর্যয়ের পর যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেই চাপের কারণেই অন্য পুরপ্রধানদের মতো সন্তোষও পদ ছাড়লেন। পদত্যাগের পর সন্তোষ মুখোপাধ্যায় বলেন, “সারা রাজ্যের মানুষ বিধানসভা নির্বাচনে যে জনাদেশ দিয়েছেন, আমি সেই রায়কে সম্মান জানাচ্ছি। তাই পুরপ্রধান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি। আমার মা গুরুতর অসুস্থ। তাঁকে সময় দিতে চাই। পাশাপাশি এবার নিজের পেশাতেও ফিরতে চাই।” তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, পুরপ্রধানের দায়িত্ব ছাড়লেও কাউন্সিলর পদ থেকে এখনই সরছেন না। তাঁর কথায়, “পুরবোর্ড যতদিন থাকবে, ততদিন আমি সোনামুখী পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করব।”

এদিকে সন্তোষের পদত্যাগ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিজেপির সোনামুখী নগর মণ্ডলের সভাপতি গিরিশঙ্কর অধিকারী। তাঁর দাবি, সোনামুখীর উন্নয়নের স্বার্থে পুরপ্রধানকে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। বিধায়কও তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন। তবুও পদত্যাগ প্রমাণ করছে, তিনি পুরসভা চালাতে ব্যর্থ হয়েছেন। গিরিশঙ্কর অধিকারী আরও জানান, প্রয়োজনে পুরসভায় প্রশাসক বসিয়ে শহরের উন্নয়নের কাজ চালিয়ে যাওয়া হবে। সব মিলিয়ে সোনামুখী পুরসভার চেয়ারম্যানের পদত্যাগ ঘিরে নতুন রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে বাঁকুড়ায়।

Related Articles