কলকাতা

জুলাইয়ে মেলেনি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা? বঞ্চিত মহিলাদের সুবিধার্থে বড় নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

শনিবার বিজেপির পরিষদীয় দলের বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানান, শুধু প্রশাসনিক আধিকারিকদের উপর নির্ভর করলে চলবে না

Truth of Bengal: অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধাভোগীদের তালিকা সংশোধনে এবার সরাসরি বিধায়কদের দায়িত্ব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার বিজেপির পরিষদীয় দলের বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানান, শুধু প্রশাসনিক আধিকারিকদের উপর নির্ভর করলে চলবে না। কারা প্রকৃতপক্ষে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য এবং কারা ভুলভাবে তালিকায় ঢুকে পড়েছেন, তা খতিয়ে দেখতে বিধায়কদের মাঠে নামতে হবে। জুলাই মাসে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা বহু মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছলেও এখনও অনেকে বঞ্চিত রয়েছেন। কেন তাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তা যাচাই করছে প্রশাসন। পাশাপাশি এমন কিছু নামও তালিকায় রয়েছে বলে অভিযোগ, যাঁরা প্রকল্পের নির্ধারিত যোগ্যতার মধ্যে পড়েন না। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অন্নপূর্ণা যোজনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই বিতর্ক তৈরির চেষ্টা করছে বিরোধীরা। তাঁর দাবি, পারিবারিক আয় বছরে ১ লক্ষ টাকার বেশি হওয়া সত্ত্বেও কয়েকজনের নাম সুবিধাভোগীর তালিকায় যুক্ত হয়েছে। আবার প্রকৃত যোগ্য বহু মহিলার নাম বাদ পড়ে গিয়েছে।

এই অসঙ্গতি দূর করতে বিধায়কদের নিজ নিজ এলাকায় বাড়তি জনসংযোগের নির্দেশ দেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, কোন নামগুলি ভুলভাবে তালিকাভুক্ত হয়েছে এবং কাদের নাম নতুন করে যুক্ত হওয়া উচিত, তার পৃথক তালিকা দ্রুত তৈরি করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “শুধু আধিকারিকদের উপর ভরসা করলে হবে না। তালিকায় সংযোজন ও বিয়োজনের ক্ষেত্রে বিধায়কদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। মানুষের কাছে গিয়ে প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।” পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে মহিলারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের মাধ্যমে মাসিক আর্থিক সহায়তা পেতেন। সাধারণ শ্রেণির মহিলাদের ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং তফশিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলাদের ১ হাজার ৭০০ টাকা করে দেওয়া হত।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি তাদের সংকল্পপত্রে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পরিবর্তে অন্নপূর্ণা যোজনা চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সরকার গঠনের পর সেই প্রকল্প কার্যকর করা হয়। বর্তমানে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী মহিলাদের প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দেওয়া হচ্ছে।

Related Articles