বাড়িতে-আবাসনে বসাতেই হবে স্মার্ট ইলেকট্রিক মিটার, সরকারি কর্মীদের কড়া নির্দেশ নবান্নের
রাজ্যের সমস্ত সরকারি কর্মচারীদের জন্য চরম বাধ্যবাধকতা! নবান্নের এক বিজ্ঞপ্তিতেই ওলটপালট চেনা নিয়ম
Truth of Bengal: রাজ্যের রাজকোষের ওপর থেকে আর্থিক বোঝা কমাতে এবং বিদ্যুৎ বণ্টনে চলা দেদার ক্ষতি রুখতে এবার সরাসরি সরকারি কর্মচারীদের ওপরই বড়সড় রাশ টানল নবান্ন। রাজ্য সরকারি কর্মচারী এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের আবাসনে এবার থেকে ‘ডোমেস্টিক স্মার্ট ইলেকট্রিক মিটার’ বসানো সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। শুক্রবার নবান্নের তরফে এই মর্মে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কড়া বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতা পুলিশের কমিশনার, সমস্ত জেলাশাসক এবং বিভাগীয় প্রধানদের অবিলম্বে এই কাজ বাস্তবায়িত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে হবে।
রাজকোষের রক্তক্ষরণ রুখতে ১০৩টি কেন্দ্রকে টার্গেট
নবান্নের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যাঁদের বেতন, পারিশ্রমিক বা সাম্মানিক সরাসরি রাজ্যের রাজকোষ থেকে দেওয়া হয়, তাঁরা সকলেই এই নতুন নিয়মের আওতায় পড়বেন। এর মধ্যে সমস্ত রাজ্য সরকারি কর্মী, আধা-সরকারি সংস্থা, রাজ্যের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, কর্পোরেশন এবং আন্ডারটেকিংয়ের কর্মীরা রয়েছেন।

ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইলেকট্রিসিটি ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (WBSEDCL) তাদের মোট ৫৫৪টি কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ১০৩টি কেন্দ্রকে এই মেগা প্রোজেক্টের জন্য বেছে নিয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই ১০৩টি কেন্দ্রের আওতাধীন এলাকাগুলিতে বিদ্যুৎ বণ্টনে ক্ষতির পরিমাণ আকাশছোঁয়া, যা রাজ্যের রাজকোষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা তৈরি করছে। নবান্ন জানিয়েছে, এই ১০৩টি সংবেদনশীল এলাকায় কাজ শেষ হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে বাকি এলাকাগুলিতেও স্মার্ট মিটার বসানো হবে। তবে গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে জানানো হয়েছে যে, এই মিটারগুলি প্রাথমিকভাবে পোস্ট-পেডই থাকবে এবং বিলিং পদ্ধতি বর্তমান ব্যবস্থার মতোই বজায় থাকবে। তবে কেউ চাইলে পরে প্রি-পেড মোড বেছে নিতে পারেন।

অফিসের ছাদে বসছে সোলার প্যানেল, বাঁচবে কোটি কোটি টাকা
স্মার্ট মিটারের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বা সবুজ শক্তির ব্যবহারে উৎসাহিত করতে রাজ্যের সমস্ত সরকারি অফিসে ‘রুফটপ সোলার প্যানেল’ বসানোর এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্ন। সরকারের আশা, এই অভিনব উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন দূষণমুক্ত পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার বাড়বে, ঠিক তেমনই সরকারি দফতরগুলির প্রতি মাসের বিপুল বিদ্যুৎ খরচ এক ধাক্কায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ৫ কিলোওয়াট পিক ক্ষমতার একটি রুফটপ সোলার প্রকল্প স্থাপনের জন্য প্রায় ৩০০ বর্গফুট ফাঁকা জায়গার প্রয়োজন। সেই মতো বিভিন্ন সরকারি অফিসের ছাদ ও খোলা জায়গা ব্যবহার করে ৫ থেকে ১৫ কিলোওয়াট পর্যন্ত ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ পরিকাঠামো গড়ে তোলার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছে বিদ্যুৎ দপ্তর। ছাব্বিশের নতুন বঙ্গে নবান্নের এই ‘স্মার্ট’ ও ‘সবুজ’ যুগলবন্দী আগামী দিনে রাজ্যের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় এক বড়সড় বিপ্লব আনতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।





