‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে বড় অনিয়মের অভিযোগ, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সর্বাধিক ১০,৫০০ অযোগ্য উপভোক্তা চিহ্নিত
নবান্ন সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৩ হাজার অযোগ্য উপভোক্তা চিহ্নিত হয়েছে
জয় চক্রবর্তী: ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। রাজ্যজুড়ে উপভোক্তাদের তালিকা পুনরায় যাচাই শুরু হতেই বিপুল সংখ্যক অযোগ্য উপভোক্তার হদিশ মিলেছে। নবান্ন সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৩ হাজার অযোগ্য উপভোক্তা চিহ্নিত হয়েছে, যার মধ্যে একমাত্র দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাতেই রয়েছেন প্রায় ১০ হাজার ৫০০ জন। অর্থাৎ, রাজ্যে এখনও পর্যন্ত চিহ্নিত মোট অযোগ্য উপভোক্তার ৭০ শতাংশেরও বেশি এই জেলার।প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা ও ডায়মন্ড হারবার ব্লক থেকেই সবচেয়ে বেশি অভিযোগ উঠে এসেছে। যাচাইয়ে দেখা গিয়েছে, বহু ব্যক্তি পাকা বাড়ির মালিক হওয়া সত্ত্বেও ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের সরকারি আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন।
প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী তাঁরা এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য ছিলেন না বলেই প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। ইতিমধ্যেই ১১টি জেলায় অযোগ্য উপভোক্তাদের কাছ থেকে সরকারি অনুদানের টাকা ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নবান্ন সূত্রের দাবি, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫০ জনের কাছ থেকে টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দা। দক্ষিণ ২৪ পরগনা ছাড়াও উত্তর দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, পূর্ব মেদিনীপুর এবং উত্তর ২৪ পরগনা-সহ একাধিক জেলায় অনিয়মের অভিযোগ মিলেছে। প্রশাসনের নির্দেশে প্রতিটি জেলার উপভোক্তাদের তালিকা পুনরায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, কীভাবে অযোগ্য ব্যক্তিরা প্রকল্পের সুবিধাভোগীর তালিকায় স্থান পেলেন, সেই বিষয়েও তদন্ত চলছে। নবান্ন সূত্রের খবর, ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগের জেরে দক্ষিণ ২৪ পরগনাকে বিশেষ নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে।উল্লেখ্য, তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে রাজ্যের নিজস্ব কোষাগারের অর্থে ‘বাংলার বাড়ি’ গ্রামীণ আবাসন প্রকল্প চালু হয়। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১২ লক্ষ উপভোক্তা দু’টি কিস্তিতে মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে পেয়েছিলেন। এছাড়া আরও প্রায় ১৮ লক্ষ উপভোক্তাকে প্রথম কিস্তি হিসেবে ৬০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের সমস্ত উপভোক্তার তালিকা পুনরায় যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই যাচাই প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পরিসংখ্যানেই বিপুল সংখ্যক অযোগ্য উপভোক্তার হদিশ মিলেছে বলে নবান্ন সূত্রের দাবি। তদন্ত এখনও চলমান থাকায় এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও প্রশাসনিক মহলের অনুমান।






