“শিক্ষা দফতরকে এমন জায়গায় নামিয়েছে যে…”, প্রাক্তন সরকারের ‘পাপের ঘড়া’ নিয়ে এ কী বললেন দীপক বর্মন!
শিক্ষকদের চোর বানিয়েছে পূর্বতন সরকার? এবার শিক্ষা ব্যবস্থার হৃতগৌরব ফেরাতে বড় ছক নতুন সরকারের
রাহুল চট্টোপাধ্যায়: পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ক্ষেত্রে গত কয়েক বছরে যে নজিরবিহীন দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারি হয়েছে, তা নিয়ে এবার নবান্নের পূর্বতন শাসকদলকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন রাজ্যের মন্ত্রী দীপক বর্মন (Dipak Barman)। দলবদলের পর থেকেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে একের পর এক ক্ষোভ উগরে দিচ্ছিলেন তিনি, তবে এবার সরাসরি শিক্ষা দফতরের (Education Department) কঙ্কালসার চেহারাটা আমজনতার সামনে টেনে আনলেন এই অভিজ্ঞ রাজনীতিক। এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বিগত সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে যে অতল গহ্বরে ঠেলে দিয়েছে, তা থেকে টেনে তোলা এই মুহূর্তে নতুন প্রশাসনের কাছে সবথেকে বড় পরীক্ষা।
“চ্যালেঞ্জ অন্য জায়গায়, মানুষের মনে বিশ্বাস ফেরাতে হবে”
সাক্ষাৎকারে মন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, শিক্ষা বিষয়টি অত্যন্ত সহজ একটি ক্ষেত্র হওয়া সত্ত্বেও গত সরকার এর মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে। তিনি বলেন, “ওটাকে যে নিচে নামিয়ে দিয়ে গেছে, ওর নিচে আমরা চেষ্টা করলেও আর নামাতে পারব না। এখন ওখান থেকে যেটুকুই হবে, সেটুকুই উপরের দিকে উঠবে। শিক্ষা দফতরকে যে জায়গায় বিগত সরকার নামিয়ে নিয়ে গেছে, সে জায়গায় অন্য কেউ চ্যালেঞ্জ করেও নামাতে পারবে না।”

তাঁর মতে, নতুন সরকারের কাছে এখন আসল চ্যালেঞ্জ হল সাধারণ মানুষের মনে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে হারিয়ে যাওয়া বিশ্বাসটা পুনরায় ফিরিয়ে আনা। আর তার থেকেও বড় কাজ হল ছাত্র-ছাত্রীদের মনে শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা পুনরুদ্ধার করা।
View this post on Instagram
শিক্ষকদের আবার শ্রদ্ধার আসনে বসানোই লক্ষ্য
দুর্নীতির অন্ধকারে ডুবে থাকা শিক্ষা ব্যবস্থার ক্ষত কতটা গভীর, তা উল্লেখ করতে গিয়ে এই বর্ষীয়ান নেতা সনাতন শাস্ত্রের বাণী স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, “আমাদের শাস্ত্রে বলছে, শ্রদ্ধাবান লভতে জ্ঞানম। কিন্তু শিক্ষক যখন দুর্নীতি করে সেখানে যুক্ত হয়, তখন শিক্ষকের উপর থেকে ছাত্রদের শ্রদ্ধা ভাবটা চলে যায়।”

দীপক বর্মন অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানান যে, নতুন ডবল ইঞ্জিনের সরকারের এখন প্রধান লক্ষ্যই হল দুর্নীতিগ্রস্তদের হটিয়ে সৎ শিক্ষকদের সমাজ ও ছাত্রদের সামনে পুনরায় সর্বোচ্চ শ্রদ্ধার আসনে সসম্মানে ফিরিয়ে আনা। ছাব্বিশের রাজনৈতিক আবহে শিক্ষা ক্ষেত্রে এমন আমূল পরিবর্তনের বার্তা যে সাধারণ ভোটারদের মনে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে, তা বলাই বাহুল্য।






