বন্যপ্রাণীর আতঙ্ক ও দুর্গম জঙ্গল জয়, বনবস্তি থেকে প্রথম মাধ্যমিক দিয়ে ইতিহাস গড়তে চলেছে সুমিলা
এতদিন এই গ্রামের কেউ মাধ্যমিকের গণ্ডি ছোঁয়ার সাহস দেখায়নি।
Truth Of Bengal: জঙ্গলঘেরা পথ, চারদিকে বন্যপ্রাণীর আতঙ্ক আর চরম অভাব—এই প্রতিকূলতাকে হার মানিয়েই নতুন ইতিহাস গড়ার পথে ডুয়ার্সের বুধরাম বনবস্তির মেয়ে সুমিলা ওরাওঁ। জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ি ব্লকের রামশাই এলাকার এই প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে সুমিলাই প্রথম শিক্ষার্থী, যে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসতে চলেছে। এতদিন এই গ্রামের কেউ মাধ্যমিকের গণ্ডি ছোঁয়ার সাহস দেখায়নি।
গরুমারা অভয়ারণ্য সংলগ্ন বুধরাম বনবস্তি থেকে পানবাড়ি ভবানী হাইস্কুলের দূরত্ব প্রায় সাত কিলোমিটার। সুমিলা জানায়, প্রতিদিন সাতসকালে সাইকেল নিয়ে তাকে স্কুলে বেরোতে হয়। জঙ্গলের সেই কাঁচা রাস্তায় হামেশাই দেখা মেলে হাতি, গন্ডার কিংবা বাইসনের। এক বুক আতঙ্ক নিয়েই প্রতিদিন এই পথ পাড়ি দিয়ে স্কুল ও টিউশনে যায় সে। সুমিলার বাবা মঞ্চাল ওরাওঁ কাজের সূত্রে ভিন রাজ্যে থাকেন। মা রূপালি ওরাওঁ কৃষিকাজ ও চা বাগানে শ্রমিকের কাজ করে চার মেয়েকে শিক্ষিত করার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
অভাবের সংসারে বড় হওয়া সুমিলার স্বপ্ন ভবিষ্যতে নার্স হওয়া। সে জানায়, আমাদের বনবস্তিতে সুযোগ-সুবিধা খুব কম। আমি নার্স হয়ে গ্রামের মানুষদের সেবা করতে চাই। সুমিলার মা বলেন, রাস্তাঘাট খারাপ, পানীয় জলের সমস্যা আর বন্যপ্রাণীর ভয়—এসব কারণেই এখানকার কেউ আগে পড়াশোনায় এগোতে পারেনি। কিন্তু আমি চাই আমার মেয়ে শিক্ষিত হয়ে গ্রামের মুখ উজ্জ্বল করুক।
গ্রামের একমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শুরু করা সুমিলার এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত প্রতিবেশী ও গ্রামবাসীরাও। তাঁদের আশা, সুমিলা মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোলে বনবস্তির অন্যান্য ছেলেমেয়েরাও পড়াশোনায় আগ্রহী হবে। প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়ে সুমিলার এই জয়যাত্রা এখন গোটা ডুয়ার্সের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম।






