“চ্যালেঞ্জ কঠিনতম, তবে ঘুরে দাঁড়াবে বাংলা!”, পূর্বতন সরকারের ধ্বংসস্তূপ থেকে নতুন ভোরের স্বপ্ন দেখালেন তাপস রায়
নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ কী? তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থান নিয়ে এবার নবান্নের ‘মাস্টারপ্ল্যান’ ফাঁস করলেন তাপস
রাহুল চট্টোপাধ্যায়: ছাব্বিশের রাজনৈতিক মহাবর্তের পর বাংলায় নতুন সরকার গঠন হলেও, পুরনো জমানার রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক ও শিল্প সংকটের ক্ষত যে কতটা গভীর, তা এবার সরাসরি মেনে নিলেন রাজ্যের প্রবীণ তথা বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তাপস রায় (Tapas Roy)। সম্প্রতি এক একান্ত সাক্ষাৎকারে রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান নিয়ে মুখ খোলেন তিনি। তাঁর সাফ দাবি, পূর্বতন সরকার পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি ক্ষেত্রকে এক চরম সংকট ও ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দিয়ে বিদায় নিয়েছে। আর সেই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে বাংলাকে তার পুরনো গৌরব ও ঐতিহ্যে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া বর্তমান সরকারের কাছে অন্যতম বড় ও ‘কঠিনতম’ চ্যালেঞ্জ।
“শুধু শিল্প নয়, সংকট সর্বক্ষেত্রে!”
ভিডিও সাক্ষাৎকারে প্রবীণ নেতা তাপস রায়কে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী অথচ চিন্তিত ভঙ্গিতে বলতে শোনা যায়, “গত সরকার রাজ্যটাকে যে ধরণের ভয়ানক পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দিয়ে গেছে, সেখান থেকে বাংলাকে উদ্ধার করা আমাদের সকলের কাছেই এক বিরাট পরীক্ষা। বিশেষ করে রাজ্যের হৃতগৌরব যদি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হয়, তবে যা যা করণীয়, তার সমস্ত কিছুই আমাদের করতে হবে।”
পরিস্থিতি কতটা জটিল, তা বোঝাতে গিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “এই কাজটা শুধু কঠিন নয়, বরং কঠিনতম। আর এটা যে কেবল রাজ্যের শিল্পক্ষেত্রের (Industrial Sector) জন্য প্রযোজ্য তা কিন্তু নয়; শিক্ষা, কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে বাংলার সর্বক্ষেত্রেই আজ একই করুণ দশা হয়ে রয়েছে। ফলে নতুন সরকার এবং দলের কাছে এটা একটা মস্ত বড়ো চ্যালেঞ্জ।”
নতুন প্রজন্মের কর্মসংস্থানই এখন একমাত্র পাখির চোখ
তবে এই চরম সংকটের মধ্যেও সাধারণ মানুষকে আশার আলো দেখিয়েছেন তিনি। তাপস বাবু জানান, বাংলার আমজনতা ও তরুণ প্রজন্ম এই নতুন সরকারের ওপর পূর্ণ আস্থা ও ভরসা রেখেছেন। তাই জনমতকে সম্মান জানিয়ে এই কঠিন পরিস্থিতিকে দ্রুত শুধরে নিতে হবে।

তাঁর মতে, নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুণী এবং যুবক-যুবতীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার একমাত্র চাবিকাঠি হলো শিল্পায়ন। তিনি বলেন, “ইন্ডাস্ট্রি বা শিল্পই হলো একমাত্র বিষয়, যা আগামী প্রজন্মের জন্য প্রকৃত ভবিষ্যৎ তৈরি করতে পারে। রাজ্যের ছেলেমেয়েদের যার যেমন শিক্ষাগত যোগ্যতা বা দক্ষতা রয়েছে, সেই অনুযায়ী যাতে তাঁরা উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ পান, তার ব্যবস্থা করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।” ডবল ইঞ্জিনের নতুন জমানায় বাংলার এই হৃত শিল্পগৌরব পুনরুদ্ধারই যে এখন প্রশাসনের মূল চালিকাশক্তি, প্রবীণ নেতার এই বক্তব্যে তা আরও একবার পরিষ্কার হয়ে গেল।





