কলকাতা

‘মেটিয়াবুরুজ-খিদিরপুরে যা খুশি করা যাবে না!’ হকার উচ্ছেদ নিয়ে তীব্র হুঙ্কার শুভেন্দুর

পরবর্তীকালে হকারদের জন্য পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করবে সরকার

Truth of Bengal: বেআইনিভাবে ফুটপাথ দখল করে ব্যবসা করলে উচ্ছেদ অভিযান চলবেই। শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে সাংবাদিক বৈঠক থেকে এই বার্তা স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে তিনি জানান, পরবর্তীকালে হকারদের জন্য পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করবে সরকার। কেন্দ্রীয় সরকারের সাফল্যের এক যুগ পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে হকার উচ্ছেদ নিয়ে মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ফুটপাথ দিয়ে হাঁটার অধিকার সাধারণ মানুষের। সেই ফুটপাথ জবরদখল করার অধিকার কারও নেই। তাঁর বক্তব্য, যেখানে সরকারি ফাঁকা জমি রয়েছে এবং সেখানে সাধারণ মানুষের অসুবিধা হচ্ছে না, সেই ধরনের ক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিষয়টি দেখা হবে। কিন্তু জনবহুল রাস্তা, বাজার এলাকা বা গুরুত্বপূর্ণ ফুটপাথ দখল করে ব্যবসা করার অনুমতি দেওয়া যায় না।

শুভেন্দু বলেন, “নিউ মার্কেটের রাস্তা দখল করে নিলে মোটরসাইকেলও যেতে পারবে না। রাজাবাজার, খিদিরপুর, মেটিয়াবুরুজে যা খুশি করা যাবে—এর জন্য মানুষ আমাকে মুখ্যমন্ত্রী করেননি। কলকাতার বড় রাস্তা এবং মানুষের হাঁটার ফুটপাথ দখল করার অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি।” মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ। জনগণের স্বার্থ যেখানে জড়িত, সেখানে সেই স্বার্থই সর্বাধিক গুরুত্ব পাবে। কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থকে সাধারণ মানুষের অধিকারের উপরে রাখা হবে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।

সম্প্রতি হাওড়া, শিয়ালদহ, যাদবপুর এবং দমদম-সহ একাধিক এলাকায় বেআইনি হকার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। এই অভিযান ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যাদবপুরে উচ্ছেদ বিরোধী আন্দোলনে নামেন সিপিএম নেতৃত্ব। সেখানে সৃজন ভট্টাচার্য-সহ কয়েকজনকে আটক করা হয়। পুলিশের লাঠিচার্জে কয়েকজন আন্দোলনকারী জখম হন বলেও অভিযোগ। হকারদের পুনর্বাসন নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী। সেই প্রসঙ্গ মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন, প্রথমে বেআইনি দখলদারি থেকে সরে আসতে হবে। এরপর ধীরে ধীরে সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে হকারদের জন্য ব্যবস্থা করা হবে। শ্রম দপ্তরের বিভিন্ন স্কিমের সুবিধাও তাঁরা পাবেন বলে জানান তিনি।

তবে উচ্ছেদ অভিযানের জেরে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় বহু হকার। তাঁদের প্রশ্ন, কবে মিলবে পুনর্বাসন? মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের পর এখন সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরা।

Related Articles