রাজ্যের খবর

মাথাভাঙ্গায় বাংলাদেশের সুগার মিলের দূষিত জলে মৃত্যু একাধিক মাছের

নদী তীর জুড়ে ছড়িয়ে থাকা মৃত মাছের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মাধব দেবনাথ, নদিয়া: বাংলাদেশের সুগার মিলের দূষিত জল ছাড়ার জেরে নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জে মাথাভাঙ্গা নদীতে মাত্রাতিকিক্ত দূষণ। ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের বিজয়পুর দিয়ে প্রবেশ করা মাথাভাঙ্গা নদীতে বাংলাদেশের দর্শনার ‘কেরো অ্যান্ড কোম্পানি’ সুগার মিলের দূষিত জল ফেলা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এই নদী কৃষ্ণগঞ্জের পাবাখালীতে গিয়ে চূর্ণী নদীতে মিশেছে।দূষিত জলের প্রভাবে মাথাভাঙ্গা নদীতে ব্যাপক হারে মাছের মৃত্যু হয়েছে। নদী তীর জুড়ে ছড়িয়ে থাকা মৃত মাছের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মৎস্যজীবীদের দাবি, একসময় সারা বছর এই নদীতে মাছ ধরে তাঁদের সংসার চলত। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে সুগার মিলের দূষিত জল ছাড়ার ফলে শুধু মাছই নয়, নদীর জলজ পোকামাকড়ও প্রায় সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, লোভের বশে অনেকেই মৃত মাছ সংগ্রহ করে খাওয়ায় পেটের রোগসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। পাশাপাশি, রিভার পাম্পের মাধ্যমে এই দূষিত জল কৃষিকাজে ব্যবহার করায় ধানের জমি ও ফসলেরও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এমনকি এই জল পান করে গবাদি পশু ও পাখির মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ।এই দূষণের জেরে কৃষ্ণগঞ্জ থেকে পায়রাডাঙ্গা পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার মৎস্যজীবী পরিবার জীবিকা হারিয়েছে। অনেকেই কাজের সন্ধানে ভিন্‌রাজ্য বা বিদেশে পাড়ি দিতে বাধ্য হয়েছেন। পরিবেশপ্রেমী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অবিলম্বে ভারত সরকার যেন বাংলাদেশ সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে এই দূষিত জল ছাড়ার কাজ বন্ধ করায়।চূর্ণী–মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচাও কমিটির সম্পাদক স্বপন কুমার ভৌমিক জানান, এই বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এমনকি ট্রাইব্যুনাল কোর্টেও আবেদন করা হয়েছিল।

আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, বাংলাদেশ সরকারকে অবিলম্বে ফিল্টার বসিয়ে দূষণ বন্ধ করতে হবে, নচেৎ ভারত সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আজ পর্যন্ত সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি। ফলে নদী দূষণের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে।কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভার বিধায়ক আশিস কুমার বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি তিনি বিধানসভায় তুলেছিলেন, তবে এখনও পর্যন্ত কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।স্থানীয় মৎস্যজীবী রতন বিশ্বাসের আক্ষেপ, আমরা এই নদীর উপর নির্ভর করেই বেঁচে থাকি। এবার দেরিতে জল ছাড়ায় আশা হয়েছিল হয়তো দূষণ বন্ধ হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ আবার দূষিত জল ছাড়তেই সব মাছ মরে গেল। এখন বাধ্য হয়ে দিনমজুরের কাজ করতে হবে। আর তাতেই প্রশ্ন উঠছে  কবে বন্ধ হবে সীমান্ত পেরিয়ে আসা এই দূষিত জল?

Related Articles