৪৯ বার ঘণ্টা বাজিয়ে বর্ণময় সূচনা! বইমেলার মঞ্চে একসঙ্গে ৯টি নতুন বই প্রকাশ মমতার
এখনও পর্যন্ত তাঁর লেখা শতাধিক বই প্রকাশিত হয়েছে।
Truth of Bengal: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে বৃহস্পতিবার উদ্বোধন হল ৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা। ৪৯ বার ঘণ্টা বাজিয়ে প্রতীকীভাবে মেলার সূচনা করা হয়। উদ্বোধনী মঞ্চ থেকেই একসঙ্গে ছ’টি নতুন বই প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রতি বছরই বইমেলায় নিজের লেখা বই প্রকাশ করেন তিনি, এবছরও তার ব্যতিক্রম হল না। এক-দুটি নয়, এবারে একসঙ্গে ছ’টি বই প্রকাশ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এই বইমেলা চলবে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এবছর বইমেলার থিম দেশ আর্জেন্টিনা। প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি ছবি আঁকা ও লেখালেখিতেও সমানভাবে সক্রিয় মুখ্যমন্ত্রী। এখনও পর্যন্ত তাঁর লেখা শতাধিক বই প্রকাশিত হয়েছে। এদিনের অনুষ্ঠানে প্রকাশিত ৬’টি বই হল— SIR ছাব্বিশে ছাব্বিশ, আমার রেলবেলা, বাংলার প্রকৃতি মা (যা ইংরেজিতেও পাওয়া যাবে), আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান, কথাভাণ্ডার (প্রথম পর্ব) এবং পুণ্যভূমির বাংলা। পাশাপাশি, শীঘ্রই আরও তিনটি বই প্রকাশ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগেও ৪৬তম কলকাতা বইমেলায় মুখ্যমন্ত্রীর ছ’টি বই প্রকাশিত হয়েছিল। এবছরও সেই সংখ্যাই বজায় রইল। এবারের বইমেলায় নেই আমেরিকা ও বাংলাদেশের স্টল, তবে তাৎপর্যপূর্ণভাবে উপস্থিত রয়েছে চিন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এবছর বইমেলায় রয়েছে প্রায় ১১০০টি স্টল। তাঁর কথায়, বইয়ের কোনও ভৌগোলিক সীমানা নেই। পাশাপাশি তিনি রাজ্যে স্থায়ী ‘বইতীর্থ’ গড়ে তোলার ঘোষণা করেন। এই প্রকল্পের জন্য ১০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। কলকাতা বইমেলার সুবর্ণজয়ন্তীর আগেই বইমেলা প্রাঙ্গনে এই বইতীর্থ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
মেট্রো পরিষেবা সম্প্রসারণ, বিশেষ করে হাওড়া থেকে সরাসরি সংযোগ চালু হওয়ায় এবছর বইমেলায় রেকর্ড সংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে। গত বছর বইমেলায় এসেছিলেন প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষ। সেই রেকর্ড এবছর ভাঙতে পারে বলে আশাবাদী আয়োজকরা। ভিড় সামাল দিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট সূত্রে জানা গিয়েছে, বইমেলা চত্বরে ছ’টি বিশেষ পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। রয়েছে হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী, সঙ্গে সাদা পোশাকের পুলিশ, অ্যান্টি-ক্রাইম ইউনিট, নাইট গার্ড, উইনার্স টিম ও স্কুটার প্যাট্রোল। সব মিলিয়ে নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে একাধিক বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।






