ভিনরাজ্যে হেনস্থার শিকার, অকাল মৃত্যু কর্মরত শ্রমিকের
সম্প্রতি সেখানে তাঁরা আক্রান্ত হন। তাঁদের মধ্যে তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
কল্যাণ বিশ্বাস: বাংলার বাইরে বাংলাভাষি শ্রমিকদের আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যাটা বেড়েই চলেছে। আরও এক বাঙালি শ্রমিকের মৃত্যু আতঙ্ক বাড়িয়েছে। উত্তরভারতের মতোই দক্ষিণ ভারতেও হেনস্থার মুখে বাঙালি শ্রমিক। মাসখানেক আগে তামিলনাড়ুতে কাজ করতে যান ভগবানগোলার কয়েকজন শ্রমিক। তাঁদেরই একজন বছর চব্বিশের ওয়াহিদ শেখ। সম্প্রতি সেখানে তাঁরা আক্রান্ত হন। তাঁদের মধ্যে তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আক্রান্তরা জানিয়েছেন, ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে তাঁরা যখন ঘরে ছিলেন,তখন রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ আচমকা গাড়ির আওয়াজ শুনতে পায়। জানলা দিয়ে উঁকি মেরে দেখেন একটা চারচাকা গাড়ি ও বাস থেকে ৩০-৩৫ জন লাঠিসোঁটা নিয়ে রুমের দিকে ছুটে আসে। তার পর শ্রমিকদের রুমে এসে একাধিক প্রশ্ন করে। তার পরেই তারা আমাদের উপর চড়াও হয়। লাঠি দিয়ে মারতে থাকে। প্রাণের ভয়ে সকলে ছুটে পালিয়ে যায়,প্রাণ বাঁচানোর জন্য।সকালে তাঁরা তিরুভাল্লুর পুলিশের কন্ট্রোল রুমে ফোন করেন সাহায্যের জন্য। কিন্তু ফোন বেজে যায়, কেউ রিসিভ করেনি। বাধ্য হয়ে মুর্শিদাবাদ পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করে হামলার কথা জানায় তাঁরা।
ভিনরাজ্যে অত্যাচার অবসাদের মুখে ঠেলে দেয় বাংলার শ্রমিক ওয়াহিদ শেখকে। আতঙ্কিত হয়ে বাড়ির মধ্যে দিন কাটাতে থাকেন বাংলার আক্রান্ত শ্রমিক। বাড়ি ফেরার ২দিন পর তাঁর ঘর থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্থার অভিযোগ ভিনরাজ্যে বারবার উঠছে। এই ঘটনায় পরিবার বেশ হতাশ হয়ে পড়েছে।হামলাকারীদের কড়া শাস্তির দাবি রেখেছে।
বিজেপি শাসিত রাজ্য বাঙালি হেনস্থায় নীরব থাকলেও তামিলনাড়ু সরকার বিদ্বেষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চায়।এমনটাই তাঁরা আভাস দিচ্ছে। বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর হেনস্থার অভিযোগে তামিলনাড়ুর পেনালুরপেট থানার পুলিশ ২ জনকে গ্রেফতার করেছে বলে জানা গেছে। পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে।






