দেশ

‘সনাতন ধর্মকে সমূলে নির্মূল করা উচিত!’ বিধানসভায় ফের বিতর্কিত মন্তব্য উদয়নিধির

তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

Truth of Bengal: তামিলনাড়ু বিধানসভায় ফের একবার ‘সনাতন ধর্ম’ বিরোধী মন্তব্য করে বিতর্কে জড়ালেন ডিএমকে বিধায়ক তথা রাজ্যের বর্তমান বিরোধী দলনেতা উদয়নিধি স্ট্যালিন। মঙ্গলবার বিধানসভার অধিবেশনে বক্তব্য রাখার সময় তিনি সাফ জানান, যে সনাতন ধর্ম মানুষকে বিভক্ত করে, তাকে সমূলে নির্মূল করা উচিত। তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

উদয়নিধি স্ট্যালিনের এই মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বিজেপি। দলের মুখপাত্র সি আর কেশবন এই বক্তব্যকে ‘বিষাক্ত’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি উদয়নিধিকে তামিলনাড়ুর রাহুল গান্ধী বলে কটাক্ষ করে বলেন যে, উদয়নিধি বিভেদমূলক ঘৃণা ছড়ানোর রাজনীতি করছেন। কেশবনের দাবি, ডিএমকে ধারাবাহিকভাবে হিন্দু ভাবাবেগে আঘাত করে আসছে। কার্তিক দীপম বা দীপাবলির মতো উৎসবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেচ্ছা না জানানো এবং দলের সাংসদদের বিতর্কিত মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি মনে করিয়ে দেন যে, তামিলনাড়ু রাজ্যের প্রতীকেই মন্দিরের গোপুরম রয়েছে। তাই সাধারণ মানুষ তাঁদের বিশ্বাসের এই অপমান কখনোই মেনে নেবেন না। উল্লেখ্য, এর আগেও একাধিকবার সনাতন ধর্ম নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন উদয়নিধি। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি মাদ্রাজ হাইকোর্টের মাদুরাই বেঞ্চ একটি মামলার পর্যবেক্ষণে উদয়নিধির এই ধরনের বক্তব্যকে ‘হেট স্পিচ’ বা ঘৃণ্য ভাষণ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। আদালত জানিয়েছিল, উদয়নিধি কেবল সনাতন ধর্মের বিরোধিতার কথা বলেননি, বরং তা নির্মূল করার ডাক দিয়েছিলেন, যা আইনত গ্রহণযোগ্য নয়।

এদিকে, অভিনেতা বিজয়-এর নেতৃত্বাধীন দল ‘তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম’ (টিভিকে) নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর নতুন বিধানসভার অধিবেশন শুরু হয়েছে। এদিন থাউজেন্ড লাইটস কেন্দ্রের বিধায়ক জেসিডি প্রভাকর সর্বসম্মতিক্রমে তামিলনাড়ু বিধানসভার স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ডিএমকে প্রার্থী এঝিলিয়ান নাগানাথনকে পরাজিত করেছেন। বিধানসভায় বক্তব্য রাখার সময় উদয়নিধি মুখ্যমন্ত্রী বিজয়কে শুভেচ্ছা জানান এবং ‘রাজনৈতিক সৌজন্য’ বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকারি ও বিরোধী দল মিলেমিশে রাজ্যের উন্নয়নের জন্য কাজ করা উচিত। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার নিরিখে নিজেকে সিনিয়র দাবি করে তিনি নতুন সরকারকে বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন।

তবে সৌজন্যের পাশাপাশি একটি প্রশাসনিক বিষয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলনেতা। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তামিলনাড়ুর রাজ্য সঙ্গীতের আগে জাতীয় সংগীত বা ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। পশ্চিমবঙ্গের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠানে বন্দে মাতরম গাওয়া হয়নি, কিন্তু এখানে তা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এটি রাজ্যের প্রথা ও সংস্কৃতির অবমাননা। রাজ্য সংগীতের স্থান দ্বিতীয় সারিতে নামিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে তিনি সরকারকে হুঁশিয়ারি দেন। সব মিলিয়ে, নতুন বিধানসভার শুরুতেই সনাতন ধর্ম ও ভাষাগত আবেগ নিয়ে সরগরম দাক্ষিণাত্যের রাজনীতি।

Related Articles