রাজ্যের খবর

তৃণমূলে ‘মহা-ভাঙন’! ৫০ বিধায়ক নিয়ে স্পিকারের কাছে ঋতব্রত, বিস্ফোরক দাবি তাপস রায়ের

“খেলা হবে!” জল্পনা সত্যি করে কি সত্যিই চলে যাচ্ছে জোড়াফুলের রাশ? বোমা ফাটালেন বিজেপি নেতা

Truth of Bengal: বঙ্গে ক্ষমতা বদলের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যে ভাঙনের খেলা শুরু হয়েছিল, তা এবার এক চূড়ান্ত ও নজিরবিহীন মোড় নিল। তৃণমূলের অন্দরের তীব্র কোন্দল ও মুষলপর্বের মাঝেই এবার সোশ্যালে এসে এক বিরাট বোমা ফাটালেন বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা তাপস রায় (Tapas Roy)। তাঁর একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার দুপুর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। তাপস রায় সরাসরি দাবি করেছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের ঘর এবার পুরোপুরি ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে এবং মহারাষ্ট্রের শিবসেনা বা এনসিপি-র মতোই অবস্থা হতে চলেছে মমতার দলের।

৫০ বিধায়ক নিয়ে বিধানসভায় ঋতব্রত!

বিজেপি নেতা তাপস রায় তাঁর ফেসবুক ওয়ালে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে লেখেন, “তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে চুরমার। মহারাষ্ট্রের মতন অবস্থা হল তৃণমূলের।” এখানেই শেষ নয়, তিনি আরও এক বিস্ফোরক তথ্য দিয়ে লিখেছেন, “বিধানসভার স্পিকারের কাছে প্রায় ৫০ জন টিএমসির (TMC) বিধায়ক নিয়ে পৌঁছে গেছে ঋতব্রত। খেলা হবে।”

রাজনৈতিক মহলের দাবি, গত কয়েকদিন ধরেই বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহার নেতৃত্বে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ বিধায়করা একজোট হচ্ছিলেন। সোমবার রাতেই কলকাতার এমএলএ হোস্টেলে শিউলি সাহা, জাভেদ খানদের উপস্থিতিতে যে গোপন বৈঠক হয়েছিল, তাপস রায়ের এই পোস্টের পর তা যেন আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠল। গুঞ্জন সত্যি করে যদি সত্যিই ৫০ জন বিধায়ক স্পিকারের কাছে গিয়ে ‘প্রকৃত তৃণমূল’ হিসেবে আলাদা গোষ্ঠী তৈরি করেন, তবে বিধানসভায় বিরোধী দলের মর্যাদাও হারাতে পারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল।

বাংলায় কি সত্যিই ‘মহারাষ্ট্র মডেল’?

অতীতে মহারাষ্ট্রে যেভাবে একনাথ শিন্ডে বা অজিত পওয়াররা সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক নিয়ে দল ভেঙে বেরিয়ে গিয়েছিলেন এবং আসল দলের প্রতীক ও নাম কেড়ে নিয়েছিলেন, ঠিক সেই একই ছক এবার বাংলায় কাজ করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই দলের ‘সই জাল’ কেলেঙ্কারি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। আর তাঁর এই বিদ্রোহে পিছন থেকে জল-হাওয়া দিচ্ছে বিজেপি, তা তাপস রায়ের এই ‘খেলা হবে’ হুঙ্কার থেকেই স্পষ্ট।

তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব যখন এই বিদ্রোহকে ‘বিজেপির চক্রান্ত’ বলে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামার চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই বিজেপির এই হেভিওয়েট নেতার ফেসবুক পোস্ট জোড়াফুল শিবিরের রক্তচাপ এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দিল। ছাব্বিশের বাংলায় ক্ষমতার অলিন্দে এখন কোন নতুন নাটক অপেক্ষা করে রয়েছে, সেটাই দেখার।

Related Articles