দুর্গাপুজো ২০২৫

দেবীর মুখে সিঁদুর, রাণীমার চোখে জল — দশমীতে রাজরাজেশ্বরীর বিদায়

Truth Of Bengal: মাধব দেবনাথ: নদিয়া: সকলের মঙ্গল কামনায় রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রাজবাড়িতে শুরু করেছিলেন রাজ রাজেশ্বরীর আরাধনা। সেই রীতি ধরেই পুজো হয়ে আসছে সেখানে। এ বিষয়ে রানীমা বলেন, “সেই রীতি ধরে রাখার চেষ্টা করছি মাত্র। জানিনা ভবিষ্যতে বংশ পরম্পরায় এই পুজো বাহিত থাকবে কিনা।”  আজ দশমীর দিন মৃন্ময়ীকে আরাধনা করার পর কৈলাসে যাওয়ার পালা, তাই চোখের জলে উমাকে শেষ বিদায় জানাতে সিঁদুর খেলায় মত্ত হলেন নদীয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের রাজবাড়ির বংশধরেরা (Royal Farewell)। প্রত্যেক বছর রাজেশ্বরীর আরাধনায় ব্রতী হয় গোটা নদীয়ার মানুষ, বিশেষ করে এই পুজোকে কেন্দ্র করে থাকে চরম উন্মাদনা। একটা সময় রাজ রাজেশ্বরীকে দর্শন করতে  রাজ্যের রাজারাও কৃষ্ণ চন্দ্রের রাজ বাড়িতে এসে উপস্থিত হতেন।

আরও পড়ুনঃ Lionel Messi: ১৪ বছর পর ফিরছেন মেসি, কলকাতা থেকে মুম্বই— রইল পুরো সফরসূচি

শক্তি আরাধনাকে বিশ্বাস করতেন রাজা কৃষ্ণচন্দ্র। অন্যদিকে তাঁর এই বিষয়টি নিয়ে অনেক রাজাই বিদ্রুপ করতেন। কিন্তু শক্তি আরাধনাকে বেছে নেন রাজা কৃষ্ণচন্দ্র, তারপর থেকেই তার রাজত্বের প্রজাদের মঙ্গল কামনায় শুরু করেছিলেন দেবী রাজ রাজেশ্বরীর আরাধনা। কয়েক শতাব্দী প্রাচীন হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত এই রাজবাড়িতে রাজরাজেশ্বরীর সাবেকিয়ানা অটুট রয়েছে। (Royal Farewell)

লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/truthofbengal

বর্তমান রাজ বাড়ির রানী মা অমৃতা রায়ের একটি মাত্র পুত্র সন্তান দেবীর আরাধনা করেন। স্বামীর অসুস্থতার কারণে রাজবাড়ির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে খুবই চিন্তিত তিনি, কিন্তু সব কিছু অতিক্রম করে পুজোর পাঁচটা দিন দেবী আরাধনায় ব্রতী হয়ে থাকেন তিনি। দশমীর দিনে নাট মন্দিরে দেবীকে বরণ করে নেন রাণীমা। এরপর উমাকে চোখের জলে বিদায় জানান। (Royal Farewell)

পরবর্তীতে আগত গৃহবধূদের সাথে মত্ত হন সিঁদুর খেলায়। তার মাঝেও আবারও কোথাও যেন হারিয়ে যাওয়ার বেদনা। তাঁদের আবারও একটা বছরের অপেক্ষা করতে হবে। দেবীর কাছে রানী মার একটাই প্রার্থনা, তিনি যেন জগতের এবং দেশের মঙ্গল করুক। (Royal Farewell)

 

Related Articles