রাজ্যের খবর

“আগের বিধায়ককে গিয়ে ধরুন!”, বেহাল রাস্তা নিয়ে বিক্ষোভের মুখে সাফাই তৃণমূল প্রার্থীর

কাদা মাখা রাস্তায় প্রার্থীর সামনেই গ্রামবাসীদের ‘বিদ্রোহ’! গাইঘাটায় প্রচারে গিয়ে নাস্তানাবুদ ঘাসফুল শিবির।

আত্মজিৎ চক্রবর্তী, উত্তর ২৪ পরগনা: ভোটের মুখে জনসংযোগে বেরিয়ে মেজাজ হারালেন তৃণমূল প্রার্থী! উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় প্রচারে গিয়ে খোদ সাধারণ মানুষের ‘গো ব্যাক’ স্লোগান আর রাস্তার বেহাল দশা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হলো নরোত্তম বিশ্বাসকে। বৃহস্পতিবার সকালে গাইঘাটা বিধানসভার ইছাপুর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। তবে মেজাজ না হারিয়ে ড্যামেজ কন্ট্রোলে পালটা ‘বিজেপি কার্ড’ খেললেন ঘাসফুল শিবিরের এই প্রার্থী।

ঘটনার সূত্রপাত ইছাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩২ নম্বর বুথ এলাকায়। সেখানে তৃণমূল প্রার্থী নরোত্তম বিশ্বাস পৌঁছানো মাত্রই স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে ঘিরে ধরেন। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা সংস্কার না হওয়ায় ক্ষোভ উগরে দেন গ্রামবাসীরা। কাদা আর খানাখন্দে ভরা রাস্তার দিকে আঙুল দেখিয়ে প্রার্থীর সামনেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নরোত্তম বিশ্বাস পালটা তোপ দাগেন এলাকার বিদায়ী বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে।

বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে নরোত্তম বিশ্বাস বলেন, “আপনারা আমাকে কেন বলছেন? যিনি গত পাঁচ বছর এই এলাকার বিধায়ক ছিলেন, তাঁকে প্রশ্ন করুন। বিজেপির বিধায়ক (সুব্রত ঠাকুর) হয়েও তিনি কেন এলাকার উন্নয়ন করেননি? কেন সাধারণ মানুষের এই দুর্দশা দূর করেননি?” একই সঙ্গে তাঁর প্রতিশ্রুতি, “এবার আমাদের সুযোগ দিন, জোড়াফুল জিতলে সবার আগে এই রাস্তার কাজ হবে।”

পরবর্তীতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, সাধারণ মানুষের এই ক্ষোভ আসলে তৃণমূলের বিরুদ্ধে নয়, বরং বিজেপির ব্যর্থতার বিরুদ্ধে। তাঁর কথায়, “মানুষ জানতে চাইছে গত পাঁচ বছর তাদের বিধায়ক কোথায় ছিলেন? তিনি কেন মানুষের অভাব-অভিযোগ কানে তোলেননি?” পাশাপাশি গাইঘাটায় তৃণমূলের ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে বলেও গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন তিনি।

অন্যদিকে, স্থানীয় তৃণমূল নেতা রবিন দাসের দাবি, এই বিক্ষোভ আসলে ‘পরিকল্পিত’। তাঁর অভিযোগ, “যাঁরা ক্ষোভ দেখাচ্ছেন, তাঁরা আসলে বিজেপির কর্মী। সাজানো নাটক করে আমাদের প্রার্থীকে আটকানোর চেষ্টা হচ্ছে। ওদের লজ্জা থাকলে নিজেদের বিধায়ক আর সাংসদের কাছে গিয়ে কৈফিয়ত চাইত।” সব মিলিয়ে ভোটের মুখে গাইঘাটার বেহাল রাস্তা এখন রাজনৈতিক কুরুক্ষেত্রের মূল অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Related Articles