দেশ

‘নির্বাচনের আগে নিরপেক্ষতা জরুরি’, বাংলায় অফিসার বদলি মামলায় হস্তক্ষেপ করতে নারাজ সুপ্রিম কোর্ট

আইনি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রাখা হয়েছে

Truth of Bengal: সুপ্রিম কোর্টে বড়সড় ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার। আইএএস এবং আইপিএস আধিকারিকদের বদলি সংক্রান্ত কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশকেই বহাল রাখল দেশের শীর্ষ আদালত। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে আপাতত এই মামলায় তারা কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। তবে আইনি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রাখা হয়েছে। এদিন সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের পক্ষে সওয়াল করেন বর্ষীয়ান আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আদালতের কাছে অভিযোগ করেন যে, রাজ্য সরকারকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে ১,১০০ জন আইএএস ও আইপিএস আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বাংলায় এর আগে কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি। এমনকি মুখ্যসচিবকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র কিছু প্রস্তাবের বিরোধিতা করার জন্য। বদলির আগে রাজ্যের সঙ্গে কোনো পরামর্শও করা হয়নি।” অতীতে উপনির্বাচনের সময় রাজ্যকে জানানোর যে নজির ছিল, সেই প্রসঙ্গও তিনি উত্থাপন করেন।

তবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই যুক্তিতে খুব একটা আমল দিতে চায়নি শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি তাঁর পর্যবেক্ষণে জানান, নির্বাচনের আগে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই বদলি করা হয়েছে। তাঁর মতে, এখানে পক্ষপাতের কোনো অভিযোগ থাকতে পারে না কারণ যাঁদের বদলি করা হয়েছে তাঁরা সকলেই বাংলার ক্যাডার। আদালত অত্যন্ত কড়া ভাষায় মন্তব্য করে যে, নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য প্রশাসন কেউই কারোর ওপর আস্থাশীল নয় এবং সেই কারণেই আদালতকে বিচারক নিয়োগ করতে হয়েছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। প্রধান বিচারপতি আরও যোগ করেন যে, আধিকারিকদের বদলি নতুন কিছু নয় এবং একে নির্বাচনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। নিরপেক্ষতার স্বার্থে ভিনরাজ্যের পর্যবেক্ষক আসতেই পারেন।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার দিনই নজিরবিহীনভাবে রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনারসহ একাধিক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্তাকে সরিয়ে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। একইসঙ্গে বেশ কিছু জেলার পুলিশ সুপার এবং ডিআইজি পদমর্যাদার অফিসারদেরও রাতারাতি বদলি করা হয়। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখে প্রতিবাদ জানান এবং পরবর্তীতে বিষয়টি কলকাতা হাই কোর্টে পৌঁছায়। হাই কোর্ট বিষয়টিকে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করার পর রাজ্য সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল, কিন্তু সেখানেও কোনো স্বস্তি মিলল না।

Related Articles