ভোটের মুখে ইডি-র বড় ধামাকা! রেশন দুর্নীতি মামলায় জ্যোতিপ্রিয়কে তলব
১৭৫ ট্রাক গম উধাও! ওপার বাংলায় পাচারের তদন্তে এবার মোক্ষম চালে ইডি, তপ্ত রাজ্য রাজনীতি।
আত্মজিৎ চক্রবর্তী, উত্তর ২৪ পরগনা: ভোটের মুখে ফের সক্রিয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এবার রেশন দুর্নীতি মামলার জল গড়াল ভিনদেশেও। ২০২০ সালে রাজ্য থেকে বাংলাদেশে প্রায় ১৭৫ ট্রাক গম পাচারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এবার রাজ্যের হেভিওয়েট নেতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে তলব করল ইডি। আগামী সোমবার তাঁকে কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভোটের এই আবহে ইডির এই পদক্ষেপ রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, ২০২০ সালে বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে পাচার হওয়া এই বিপুল পরিমাণ গমের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৬ কোটি টাকা। দীর্ঘদিনের তদন্ত ও বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে ইডির হাতে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সেই সমস্ত তথ্যের ভিত্তিতেই প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান গোয়েন্দারা। বিশেষ করে রেশন বণ্টন ব্যবস্থার সাথে এই পাচারকাণ্ডের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখাই এখন মূল লক্ষ্য ইডির।
স্বভাবতই এই তলব ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। দলের নেতৃত্বের দাবি, “ভোটের ঠিক আগে বিরোধীদের চাপে ফেলতেই পরিকল্পিতভাবে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করা হচ্ছে। মানুষের সমর্থন হারিয়ে এখন ইডি-সিবিআই দিয়ে লড়াই করতে চাইছে বিজেপি।” তৃণমূলের সাফ কথা, নির্বাচন দোরগোড়ায় থাকায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই এই সময়টি বেছে নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, সুর চড়িয়েছে বিজেপি ও বাম-কংগ্রেস শিবিরও। বিরোধী নেতৃত্বের দাবি, দুর্নীতির শিকড় অনেক গভীরে এবং কোনোভাবেই পাচারকারীদের ছাড় দেওয়া উচিত নয়। তাঁদের বক্তব্য, “আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। ১৬ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি যখন বিদেশে পাচার হয়েছে, তখন তদন্ত তো হবেই। এখানে রাজনীতির কিছু নেই, বরং এটা জনগণের টাকা লুটের বিচার।” সব মিলিয়ে সোমবারের এই হাজিরাকে কেন্দ্র করে ভোটের উত্তাপ কয়েক গুণ বেড়ে গেল তিলোত্তমায়।






