পাক-অধিকৃত কাশ্মীর কি এবার ভারতের? সংসদে নয়া বিল আনছে মোদি সরকার
সীমানা নির্ধারণে ‘ডিলিমিটেশন বিল’ আনছে কেন্দ্র, ২৪টি সংরক্ষিত আসন নিয়ে বড় পরিকল্পনা।
Truth of Bengal: পাক-অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) নিয়ে এবার মোদি সরকারের বড় মাস্টারস্ট্রোক! চলতি সপ্তাহেই সংসদে পেশ হতে চলেছে ‘ডিলিমিটেশন বিল ২০২৬’, যার মাধ্যমে পাক-অধিকৃত কাশ্মীর ভারতের নিয়ন্ত্রণে এলে সেখানে নির্বাচনী ক্ষেত্র পুনর্বিন্যাসের আইনি পথ পরিষ্কার হবে। ভারতের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক মহলে ইসলামাবাদের ওপর প্রবল চাপ তৈরির কৌশল হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
সংসদীয় সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় বাজেটের বর্ধিত তিন দিনের অধিবেশনেই এই গুরুত্বপূর্ণ বিলটি আনা হতে পারে। এই প্রস্তাবিত আইনে ভারতের নির্বাচন কমিশনকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। পাক-অধিকৃত কাশ্মীর ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সাথে সাথেই সেখানে ডিলিমিটেশন বা সীমানা নির্ধারণের কাজ শুরু করতে পারবে কমিশন। বর্তমানে জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভায় ২৪টি আসন ওই অঞ্চলের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে, যেগুলিতে প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কখনও নির্বাচন হয়নি।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একাধিকবার হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন, “পাক-অধিকৃত কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং আমরা তা ফিরিয়ে নেবই।” ২০১৯ সালে ৩৭০ ধারা বিলোপের পর থেকেই কাশ্মীর ইস্যুতে আক্রমণাত্মক পথে হাঁটছে কেন্দ্র। ১৯৪৪ সালের সংসদীয় প্রস্তাব এবং ১৯৪৭ সালে মহারাজা হরি সিং-এর স্বাক্ষরিত সেই ঐতিহাসিক চুক্তির মর্যাদা রক্ষা করতেই এই নয়া বিল আনা হচ্ছে বলে দাবি করছে সরকারি পক্ষ।
তবে এই বিল পাশ করানো নিয়ে কিছুটা আইনি মারপ্যাঁচ রয়েছে। সাধারণ ডিলিমিটেশন বিলটি সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (Simple Majority)-তেই পাশ করা সম্ভব হলেও, এর সঙ্গে থাকা ‘সংবিধান সংশোধনী বিল ২০২৬’ (১৩১তম সংশোধনী) এবং ‘কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধন’ বিল দুটির জন্য সংসদে বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (Special Majority) প্রয়োজন হবে। সরকার পক্ষের দাবি, ভারতের সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াইয়ে তাঁরা আত্মবিশ্বাসী।
অন্যদিকে, এই বিলের সময়জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। তাঁদের দাবি, নতুন আদমশুমারি বা সেনসাস হওয়ার আগেই এই ধরনের সীমানা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে। তবে কেন্দ্রের পালটা যুক্তি, ভারতের ভূখণ্ডগত অবস্থানকে সাংবিধানিকভাবে আরও শক্তিশালী করতেই এই আইনি পরিকাঠামো তৈরি রাখা জরুরি। নববর্ষের আবহে কেন্দ্রের এই নয়া পদক্ষেপ যে উপত্যকা তথা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে বড় কম্পন তৈরি করবে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।





