চাকরি

AI Unemployment: ২০২৭ সালেই শুরু হতে পারে চাকরি সংকট! ২০৩০ সালের মধ্যে ৯৯% চাকরি কেড়ে নেবে AI, হুঁশিয়ারি বিশেষজ্ঞের

AI could wipe out 99% of jobs by 2030, warns expert Roman Yampolskiy. With the rise of Artificial General Intelligence, even coders and CEOs may become obsolete. Here's what it means for the future of work.

Truth Of Bengal: নতুন এক বিপদের আশঙ্কা করে সতর্কবার্তা দিলেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বিশেষজ্ঞ প্রফেসর রোমান ইয়াম্পলস্কি। তাঁর দাবি, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই AI এতটাই উন্নত হয়ে উঠবে যে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষ চাকরি হারাবে(AI Unemployment)। ইউনিভার্সিটি অফ লুইসভিলের এই কম্পিউটার বিজ্ঞানী জানান, ২০২৭ সালের মধ্যেই AGI (Artificial General Intelligence) বা মানবমতো বুদ্ধিসম্পন্ন কৃত্রিম মেশিন এসে যাবে। তার ঠিক তিন বছরের মাথায়, অর্থাৎ ২০৩০ সালের মধ্যেই AI ও হিউম্যানয়েড রোবট এমন জায়গায় পৌঁছে যাবে যেখানে আর মানুষের প্রয়োজন পড়বে না।

আরও পড়ুনঃ Hijazi: দিয়ামান্তাকসের পর হিজাজির সঙ্গেও গোল্ডেন হ্যান্ডশেক লাল-হলুদের

প্রফেসর ইয়াম্পলস্কি জানান, প্রথমে অফিসের কাজ—অর্থাৎ কম্পিউটারের মাধ্যমে করা যাবতীয় কাজ—পুরোপুরি অটোমেশনের আওতায় চলে আসবে। এরপর মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে হিউম্যানয়েড রোবটের সাহায্যে শারীরিক শ্রমের কাজও স্বয়ংক্রিয় হয়ে যাবে(AI Unemployment)। এমন পরিস্থিতিতে কোনও সংস্থাই আর মানুষের উপর নির্ভর করতে চাইবে না, বরং কম খরচে এবং নির্ভুলভাবে AI-র মাধ্যমে সব কাজ করিয়ে নেবে। তাঁর কথায়, “যদি মাত্র ২০ ডলারের সাবস্ক্রিপশন দিয়ে এমন একটি মডেল পাওয়া যায়, যা একজন কর্মীর মতো কাজ করতে পারে, তাহলে কেউ আর কর্মী নিয়োগ করবে না।”

লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/truthofbengal

এই পরিস্থিতিকে ভয়াবহ বলে ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। কারণ, একটি চাকরি শুধু আয়ের উৎস নয়—এটি মানুষের সামাজিক পরিচয়, মর্যাদা, মানসিক স্থিতি ও সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা রাখে(AI Unemployment)। যদি সমস্ত চাকরি চলে যায়, তাহলে মানুষের জীবনের কাঠামোই ভেঙে পড়বে। তাঁর মতে, “এই পরিস্থিতিতে কোনও প্ল্যান বি নেই। মানুষকে পুনরায় প্রশিক্ষণ দিলেও কোনও লাভ হবে না, কারণ কাজই থাকবে না।”

প্রফেসর ইয়াম্পলস্কি একা নন, Anthropic সংস্থার CEO ডারিও অ্যামোডেই-ও সম্প্রতি বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে AI অন্তত ৫০ শতাংশ হোয়াইট-কলার এন্ট্রি-লেভেল চাকরি কেড়ে নেবে। তাঁর মতে, সরকার ও নীতিনির্ধারকেরা এই বিষয়টি খুব একটা গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন না, অথচ ভবিষ্যতের সংকট একেবারে সামনে চলে এসেছে। এমনকি, গুগলের প্রাক্তন কর্পোরেট প্রধান মো গাওদাত জানিয়েছেন, ২০২৭ সাল থেকেই শুরু হবে ‘AI হেল’। সফটওয়্যার ডেভেলপার, পডকাস্টার, এমনকি CEO-রাও বাদ যাবেন না— সবাই বিপদের মুখে পড়বেন।

এই সম্ভাব্য সংকট থেকে বাঁচতে কী করা উচিত, সেই প্রশ্নে ইয়াম্পলস্কি জানান, AI হয়তো এক সময় ‘ফ্রি লেবার’ ও ‘ফ্রি ওয়েলথ’ তৈরি করবে, কিন্তু তবু মানুষ জীবনের অর্থ, কাজ এবং লক্ষ্য কোথা থেকে পাবে? এই প্রশ্নের উত্তর এখনই ভাবতে হবে, কারণ সময় খুব কম। ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের চেহারা কেমন হবে, তা নিয়ে আজকের দিনে থেকেই গভীরভাবে ভাবতে হবে বলেই মত তাঁর।

সারকথা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতিতে মানুষ যেমন উপকৃত হচ্ছে, তেমনই সামনে আসতে চলেছে এক গভীর সংকট। যদি এখনই সচেতন না হওয়া যায়, তাহলে আগামী দশকে মানবসভ্যতার সামনে দাঁড়াতে পারে নজিরবিহীন কর্মহীনতা ও সামাজিক অস্থিরতা।

Related Articles