রোগী ভর্তির নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগে এসএসকেএমে গ্রেফতার ৬
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভবানীপুর থানার ওসি সৌমিত্র বসুর নেতৃত্বে বিশেষ দল গঠন করে দালালচক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করা হয়।
Truth of Bengal: দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসা রোগী ও তাঁদের পরিজনদের অসহায়তার সুযোগ নিয়ে এসএসকেএম হাসপাতালে সক্রিয় হয়েছিল দালালচক্র। রোগী ভর্তি করানো থেকে শুরু করে হাসপাতালের বিভিন্ন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গত এক মাসে এই অভিযোগে পরপর ছ’জনকে গ্রেফতার করেছে ভবানীপুর থানার পুলিশ। বৃহস্পতিবারও গ্রেফতার হয়েছে আরও এক অভিযুক্ত।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভবানীপুর থানার ওসি সৌমিত্র বসুর নেতৃত্বে বিশেষ দল গঠন করে দালালচক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, ধৃতদের অধিকাংশই কলকাতার বাইরের জেলার বাসিন্দা। গত ৬ জুলাই প্রথমে হুগলির উৎপল বসুমল্লিক এবং মুর্শিদাবাদের আশাবুল শেখকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর একে একে হুগলির সুজয় দাস, ভবানীপুরের রাজেশ মল্লিক এবং তাপস নায়েককে গ্রেফতার করে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার পুলিশের জালে ধরা পড়ে উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জের বাসিন্দা অমিত প্রামাণিক। অভিযোগ, এক রোগীকে বিশেষ কোটায় এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর পরিবারের কাছ থেকে টাকা নিতে শুরু করেছিল অমিত। দু’দফায় মোট ১৩ হাজার টাকা নেওয়ার পর আচমকাই উধাও হয়ে যায় সে।
এরপর ভবানীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের হলে তদন্তে নামে পুলিশ। অভিযুক্তের মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তার অবস্থান চিহ্নিত করা হয়। পরে অমিত প্রামাণিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। কখনও রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার নাম করে, কখনও আবার চিকিৎসা সংক্রান্ত অন্য সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রোগীর পরিজনদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হত বলে অভিযোগ।
দালালচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এসএসকেএম হাসপাতাল চত্বরে নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলিতে দালালচক্র ঠেকাতে অতীতে একাধিক পদক্ষেপ করা হলেও পুরোপুরি এই সমস্যা নির্মূল করা যায়নি। এবার প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর দালালচক্রের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ করা হবে বলে স্বাস্থ্য দফতরের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।






