কলকাতা

“রাস্তাটা সংসার পাতার জায়গা নয়, খাট-বিছানা নিয়ে চলে আসুন!”, ল্যান্সডাউন বাজারে রণংদেহী অগ্নিমিত্রা!

রবিবারের সকালে ল্যান্সডাউনে সারপ্রাইজ ভিজিট! ফুটপাথ দখলকারীদের মাত্র ২ দিনের আলটিমেটাম অগ্নিমিত্রা পালের

Truth of Bengal: “রাস্তাটা কিন্তু সংসার পাতার জায়গা নয়। সংসার পাততে হলে দোকান কিনে পাতুন!”, রবিবার সকালে ল্যান্সডাউন বাজার পরিদর্শনে গিয়ে ঠিক এই ভাষাতেই ফুটপাথ ও রাস্তা দখলকারীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শহর কলকাতার রাস্তা ও ফুটপাথ জবরদখলমুক্ত করতে লাগাতার অভিযান চালানো হচ্ছে। ইতিপূর্বেও একাধিক বাজারে সারপ্রাইজ ভিজিটে গিয়ে ব্যবসায়ীদের ধমক দিতে দেখা গিয়েছিল মন্ত্রীকে। এদিন ঠিক একই মেজাজে ল্যান্সডাউন বাজারের ফুটপাথ ও রাস্তার সিংহভাগ অংশ ব্যবসায়ীদের দখলে চলে যেতে দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। একইসঙ্গে আগামী ২ দিনের মধ্যে বেআইনি দখলদারি খালি করার কড়া নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

রবিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ হঠাৎ করেই ল্যান্সডাউন এলাকার বাজারে পৌঁছে যান অগ্নিমিত্রা পাল। ফুটপাথে পসরা সাজিয়ে বসা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রতিদিন তাঁরা কতক্ষণ সেখানে থাকেন তা জানতে চান। পরিদর্শনের মাঝেই রাস্তার বড় অংশ দখল করে থাকা একটি ফলের দোকান নজর কেড়ে নেয় মন্ত্রীর। ফুটপাথ থেকে রাস্তা পর্যন্ত প্লাস্টিকের ক্রেট সাজিয়ে রাখা দেখে দোকানদারকে ডেকে মন্ত্রী সরাসরি প্রশ্ন করেন, “আপনি যদি এতখানি জায়গা জুড়ে ফলের বাক্স সাজিয়ে রাখেন, তবে সাধারণ মানুষ রাস্তা দিয়ে হাঁটবে কোথা থেকে?” এরপর পুর-প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডেকে সঙ্গে নিয়ে পুরো বাজার ঘুরে দেখেন মন্ত্রী এবং পথচারীদের চলাচলে বাধা তৈরি করা দোকানগুলির বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের নির্দেশ দেন।

মাছ, মাংস ও ফলের দোকানে পরিদর্শনের পর একটি বিশাল সবজির দোকানে ঢুকে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন পুরমন্ত্রী। রবিবারের ভরা বাজারে ওই দোকানে বিপুল পরিমাণ সবজির পসরা দেখে কিছুটা থমকে যান তিনি। হঠাৎ মন্ত্রীকে দেখে ভ্যাবাচাকা খেয়ে যান ব্যবসায়ীরাও। সেখানে দাঁড়িয়েই ক্ষুব্ধ অগ্নিমিত্রা মন্তব্য করেন, “শুধু দোকান কেন, খাট-বিছানা নিয়ে চলে আসুন না! সংসার পাততে চাইলে দোকান কিনে ব্যবসা করুন, সরকারি জায়গা দখল করে নয়।”

এখানেই থেমে না থেকে পুর-প্রশাসককে ওই দোকানের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। এরপরই ক্ষোভের সুর চড়িয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “কোনও তৃণমূল কাউন্সিলরকে টাকা খাইয়ে এই জায়গা দখল করেছেন? নাম বলুন, কার নির্দেশে সরকারি জমি দখল করে ব্যবসা চালাচ্ছেন?” পরিদর্শনের সময় গাফিলতির অভিযোগে ল্যান্সডাউন মার্কেটের সুপারভাইজারকেও তীব্র ভর্ৎসনা করেন অগ্নিমিত্রা পাল। মন্ত্রীর বেঁধে দেওয়া ২ দিনের ডেডলাইনের পর ল্যান্সডাউন বাজারের জবরদখল কতটা খালি হয়, এখন সেটাই দেখার।

Related Articles