ব্যবসা

জেআইএস-এনআইটি র উদ্যোগে ‘এআই উৎকর্ষ ২০২৬’

অধিবেশনটি বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে অলঙ্কৃত হয়েছিল

রাহুল চট্টোপাধ্যায়: জেআই এস গ্রুপের একটি শিক্ষামূলক উদ্যোগ—নারুলা ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি, এন আই টি আয়োজন করলো দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক এক অভিনব বৈশ্বিক সম্মেলন ‘এ আই উৎকর্ষ ২০২৬’। নারুলা ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি—তাদের ২৫ বছরের শিক্ষাগত উৎকর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে ওই সম্মেলনের আয়োজন করেছিল।

চিত্র: নিজস্ব

‘এআই উৎকর্ষ ২০২৬’-শীর্ষক দুই দিনব্যাপী এক আন্তর্জাতিক এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল দায়িত্বশীল এআই – সততার সাথে উদ্ভাবন। এই সম্মেলনে শিল্পক্ষেত্রের বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ, বিশ্বখ্যাত গবেষক, নীতিনির্ধারক, উদ্ভাবকরা একটি অভিন্ন মঞ্চে সমবেত হন। তাঁরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রূপান্তরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করার পাশাপাশি এর নৈতিক, সামাজিক, নিয়ন্ত্রণমূলক দিকগুলোও সমালোচনামূলক দৃষ্টিতে পর্যালোচনা করেন। সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনটি বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে অলঙ্কৃত হয়েছিল।

তাঁদের মধ্যে ছিলেন ড. দীপন সাহু (সহকারী উদ্ভাবন পরিচালক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ভারত সরকার,উদ্ভাবন সেল-এআইসিটিই), মনোজিত সেনগুপ্ত (ডেলিভারি সেন্টার প্রধান – পূর্বাঞ্চল, টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস), পি.কে. দাস (পরিচালক, এমএস এম ই ডি এফ ও, কলকাতা),ড. স্বাগতম দাস(অধ্যাপক-ভারপ্রাপ্ত, কম্পিউটার ও যোগাযোগ বিজ্ঞান বিভাগ ও অধ্যাপক, ইলেকট্রনিক্স ও যোগাযোগ বিজ্ঞান ইউনিট, ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট), ড. তাপস কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় (অধ্যাপক-ভারপ্রাপ্ত, আইপিআর ও আই আর, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি খড়গপুর), জেআইএস গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর তথা জেআইএস বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য সর্দার তরনজিৎ সিং, জেআইএস গ্রুপের ডিরেক্টর সর্দার সীমারপ্রীত সিং, নারুলা ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি র অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড.শুভ্রাম দাস, এআই উৎকর্ষ -র চেয়ারপারসন ড. নিধি সিং সহ অন্যান্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞগণ।

চিত্র: নিজস্ব

এই সম্মেলনে ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অংশগ্রহণকারীরা ছাড়াও সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড (ব্যাংকক), ভিয়েতনাম, শ্রীলঙ্কার মতো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় উদ্ভাবন-কেন্দ্রিক অঞ্চলগুলো থেকেও অংশগ্রহণকারীরা আকৃষ্ট হন। যার ফলে আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা এবং অর্থবহ জ্ঞান বিনিময়ের এক চমৎকার পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এই দুই দিনব্যাপী কর্মসূচিতে মূল বক্তৃতার অধিবেশন, প্যানেল আলোচনা, একটি স্টার্টআপ ও উদ্ভাবন প্রদর্শনী, একটি ২৪-ঘণ্টার এআই হ্যাকাথনের মতো আকর্ষণীয় আয়োজনগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই হ্যাকাথনটি এমনভাবে সাজানো হয়েছিল যাতে শিল্পক্ষেত্রের বাস্তব সমস্যাগুলোর সমাধান খুঁজে পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে দায়িত্বশীল, সম্প্রসারণযোগ্য এবং কার্যকর এ আই সমাধান তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

সম্মেলনের প্রযুক্তিগত অধিবেশনগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ এবং শিল্পক্ষেত্রে এর বহুমুখী প্রয়োগ নিয়ে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার ও যোগাযোগ বিজ্ঞান বিভাগের ভারপ্রাপ্ত অধ্যাপক এবং ইলেকট্রনিক্স ও যোগাযোগ বিজ্ঞান ইউনিটের অধ্যাপক ড. স্বাগতম দাস এআই-এর ভবিষ্যৎ ও শিল্প রূপান্তর বিষয়ক একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় মূল বক্তব্য প্রদান করেন।

‘এআই-এর শিল্পায়ন: গবেষণা উদ্ভাবন থেকে পরিমাপযোগ্য ও দায়িত্বশীল প্রয়োগ’—বিষয়ক প্যানেল আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন ‘বীক্ষণ টেকনোলজিস’-এর ড. তনুশ্যাম চট্টোপাধ্যায়, যিনি পূর্বে ‘আদানি এআই ল্যাবস’-এর কম্পিউটার ভিশন বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই প্যানেলে বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কারিগরি শিক্ষা প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন দপ্তরের ওএসডি তথা পদাধিকারবলে উপ-পরিচালক ড. দেবায়ন গাঙ্গুলি, মৌলানা আবুল কালাম আজাদ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. দেবাশিস দে, ‘ডিস্ট্রনিক্স’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা রোহিত সরকার, ‘অ্যায়োনিক্স রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা অরিজিৎ দাস (এন আই টি র ২০২০ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী)।

মূল বক্তব্য প্রদান করেন ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি , আইআইটি খড়গপুরের আইপিআর ও আইআর বিভাগের ভারপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. তাপস কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, ‘এশিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি’-র অ্যাডভান্সড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের (এফ এ এস টি) এআই বিশেষজ্ঞ ও ‘গ্লোবাল ইনোভেশন ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম’-এর পরিচালক ড. ঋষি জৈন। তাঁদের আলোচনা মূলত মেধা সম্পত্তি (ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি), উদ্ভাবন-সহায়ক পরিবেশ এবং এআই ক্ষেত্রে বৈশ্বিক সহযোগিতার প্রসারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ওপর আলোকপাত করে।

দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে ধারাবাহিক মূল বক্তব্য অধিবেশন, প্যানেল আলোচনা, পারস্পরিক সহযোগিতামূলক কার্যক্রম এবং এআই উদ্ভাবনের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শিক্ষাঙ্গন, শিল্পজগত এবং নীতিনির্ধারকদের পারস্পরিক যোগাযোগের সুযোগও ছিলো। সম্মেলনের সমাপনী দিনে পারস্পরিক সহযোগিতামূলক ঘোষণা এবং সমাপনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়, যা দায়িত্বশীল এআই গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে অংশীদারিত্বকে আরও সুদৃঢ় করে।

এই প্রসঙ্গে ‘জেআইএস গ্রুপ’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সর্দার তরনজিৎ সিং বলেন, এ আই উৎকর্ষ ২০২৬ সম্মেলনটি উদ্ভাবন-চালিত শিক্ষার প্রসার এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদার করার ক্ষেত্রে জেআইএস গ্রুপের অটল অঙ্গীকারকেই প্রতিফলিত করে। ‘নারুলা ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি’ যখন তাদের উৎকর্ষের ২৫ বছর পূর্তি উদযাপন করছে, তখন এই সম্মেলনটি শিক্ষাঙ্গন, শিল্পজগত এবং নীতিনির্ধারকদের একত্রিত হওয়ার জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করছে—যাতে তাঁরা যৌথভাবে এমন সব দায়িত্বশীল এআই সমাধান তৈরি করতে পারেন, যা জাতীয় প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে এবং সমাজের অগ্রগতিতে অর্থবহ অবদান রাখবে। ওই উপলক্ষে একটি অত্যাধুনিক অ্যাপেল এআই পরীক্ষাগারেরও সূচনা হয়।

Related Articles