Truth Of Bengal: সত্যেন মহন্ত: উত্তর দিনাজপুর: দুর্গাপুজো বাংলার ঐতিহ্য। এই সাবেকি পুজোকে ঘিরে চর্চিত হয় নানা কাহিনি। সেরকমই এক কাহিনি হল উত্তর দিনাজপুর কালিয়াগঞ্জের তরঙ্গপুর ঘোষ বাড়ির পুজো। ইতিহাস নির্ভর এই দুর্গাপুজোর কাহিনি আজও ব্যাপকভাবে চর্চিত। ৭৬ বছরে পদার্পণ করা এই পুজোর কাহিনি বেশ আকর্ষণীয়। (Durga Puja 2025)
আরও পড়ুনঃ হায়দরাবাদের রাস্তায় খেলা ইলেকট্রিক মিস্ত্রির পুত্র তিলকই এশিয়া কাপে টিম ইন্ডিয়ার হিরো
স্বাধীনতা সংগ্রামী স্বর্গীয় সতীশচন্দ্র ঘোষের হাত ধরে ১৯৪৮ সালে কালিয়াগঞ্জের তরঙ্গপুরে শুরু হয় দুর্গাপুজো (Durga Puja 2025)। বলা হয়, দেশ ভাগের সময় কালিয়াগঞ্জকে ভারতের অধীনে রাখতে মা দুর্গার কাছে করা মানত করেন সতীশ্চন্দ্র। সেই অনুযায়ী শুরু হওয়া পুজো এখনও তার ঐতিহ্য বহন করে চলছে। কালিয়াগঞ্জ শহর লাগোয়া বোঁচাডাঙ্গা পঞ্চায়েতের তরঙ্গপুর হাটখোলার পাশেই ঘোষ বাড়ির নিজস্ব দুর্গা মন্দির। স্বর্গীয় সতীশচন্দ্র ঘোষের পুত্র ও নাতিদের হাত ধরে বংশ পরম্পরায় নিয়ম-নিষ্ঠার সঙ্গে তরঙ্গপুর ঘোষ বাড়ির এই পুজোর আয়োজন করা হয়।
লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/truthofbengal/
উল্লেখ্য, এটি স্বর্গীয় সতীশচন্দ্র ঘোষের নাতি প্রদেশ তৃণমূল সম্পাদক অসীম ঘোষের পারিবারিক দুর্গাপুজো। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় কালিয়াগঞ্জ থানা এলাকা পূর্ব পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা হয়৷ এর প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করেন তার ঠাকুরদা সহ কালিয়াগঞ্জের স্বাধীনতা আন্দোলনে যুক্ত মানুষেরা। সতীশবাবু সেই সময় মা দুর্গার কাছে মানত করেন কালিয়াগঞ্জ যদি ভারতের অধীনে থাকে, তাহলে নিজের বাড়িতে মায়ের পুজো করবেন। সৌভাগ্যক্রমে কালিয়াগঞ্জ ভারতেই থেকে যায়। তাই মানত অনুসারে এরপর ১৯৪৮ সালে নিজের বাড়িতে পুজো শুরু হয়। (Durga Puja 2025)
কর্মসূত্রে দেশ, বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে আছেন সতীশবাবুর বংশধররা। এই পুজোর দিনগুলোতে সকলেই কালিয়াগঞ্জের তরঙ্গপুরে নিজের বাড়িতে ফিরে আসেন। এই সময়ে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের নিয়ে মহামিলন উৎসবে ভরে ওঠে এই বাড়ির পরিবেশ। এখনও সেই ঐতিহ্য বহন করে তরঙ্গপুর ঘোষ বাড়ির দুর্গাপুজোয় সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীর তিনদিন মায়ের ভোগ খাওয়ানো হয়। যার জন্য তৃপ্ত হয় হাজারো মানুষ। (Durga Puja 2025)






