হায়দরাবাদের রাস্তায় খেলা ইলেকট্রিক মিস্ত্রির পুত্র তিলকই এশিয়া কাপে টিম ইন্ডিয়ার হিরো
সেই কঠিন অবস্থায় তিলক দলকে শুধু আইসিসিইউ থেকে টেনে তুললেনই নয়, ম্যাচ জিতিয়ে চ্যাম্পিয়নও করলেন।
Truth Of Bengal: তিলক বর্মা। (Tilak Varma) বর্তমান ভারতীয় দলের অন্যতম হিরো। হ্যাঁ অবশ্যই হিরো তো বটেই। ফাইনালে তিলক যখন ব্যাট করতে এলেন, তখন ভারতীয় দল প্রায় আইসিইউতে প্রবেশ করেছে। সেই কঠিন অবস্থায় তিলক দলকে শুধু আইসিসিইউ থেকে টেনে তুললেনই নয়, ম্যাচ জিতিয়ে চ্যাম্পিয়নও করলেন। অথচ এই তিলকের শৈশবে ক্রিকেট শিখতে যাওয়ার পথটা অত সহজ ছিল না। কেননা তাঁর বাবার সেই সমর্থ ছিল না যে ছেলেকে ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে ভরতি করবেন।
একটা সময় ভারতীয় ফুটবলে বহু কিংবদন্তি ফুটবলার উঠে এসেছিলেন নিজাম শাসিত হায়দরাবাদ থেকে। এরপর ভারতীয় ক্রিকেটকেও হায়দরাবাদ উপহার দিয়েছে শিবলাল যাদব, মহম্মদ আজহারউদ্দিন থেকে শুরু করে ভিভিএল লক্ষ্মনের মতো স্বনামধন্য ক্রিকেটারদের। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল আরও একটি নাম। সেটি তিলক বর্মা।(Tilak Varma)
এবারের এশিয়া কাপের হায়দরাবাদি হিরো তিলক ছোটবেলা থেকেই ছিল ক্রিকেট পাগল। ক্রিকেটের ব্যাট-আর বল পেলে ও যেন আর কিছু চাইত না। কিন্তু ছেলের ক্রিকেটের প্রতি এমন ভালবাসা দেখে পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি তিলকের বাবা নাম্বুরি নাগরাজু এবং তাঁর স্ত্রী গায়ত্রী দেবী ছেলেকে বড় ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন মনে মনে দেখলেন বটে। কিন্তু তাঁদের চিন্তা বাড়ল নিজেদের অর্থনৈতিক সামর্থ্য না থাকায়। কেননা তিলকের বাবা ছিলেন পেশায় একজন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি। তবুও হার মানতে চাননি নাগরাজু ও তাঁর সহধর্মীনী।
আজ তাঁদের সেই কষ্টের দাম পুরোপুরি দিয়ে শুধু তাঁদের মুখেই নয়, গোটা দেশবাসীর মুখে হাসি ফোটালেন হায়দরাবাদের এই তরুণ ব্যাটার। তিলক বর্মার জাতীয় দলে অভিষেক ঘটে গত দুই বছর আগে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে। মাত্র দুই বছরের মধ্যেই তিলক এখন আন্তজার্তিক ক্রিকেটের হিরো হয়ে গিয়েছেন। ভারতকে এশিয়া কাপ এনে দিয়ে।(Tilak Varma)
কথায় আছে প্রতিভা যাঁর আছে, ঠিক ঠাক লালন-পালন করলে একদিন না একদিন সে বিকশিত হবেই। তিলক-ও তাঁর ব্যতিক্রম নন। তিলককে ঠিকমত তৈরি করতে পারলে সে যে আগামী দিনে ভারতের জার্সি গায়ে নায়ক হয়ে উঠবেন, তা তাঁকে দেখেই বুঝেছিলেন সালিম বায়াস। যাঁর হাত ধরেই তিলক শিখেছিলেন ক্রিকেটের প্রাথমিক পাঠ। কিন্তু বাবার সামর্থ্য ছিল না ছেলেকে ৪০ কিমি দূরে অবস্থিত ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে কোচিং নেওয়ার জন্য পাঠানোর। সেই দায়িত্ব নিয়ে নিলেন বায়াস। নিজের গাড়িতে তিলককে প্রতিদিন লিগালা ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে নিয়ে আসা, নিয়ে যাওয়ার দায়িত্বও নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন তিনি। এরপর তিলককে তৈরি করতে লাগলেন মন দিয়ে।
সেই অ্যাকাডেমি থেকে উত্থান হওয়া তিলকের হায়দরাবাদের হয়ে প্রথম অভিষেক হয় ২০১৮-১৯ মরসুমে। ঘরোয়া টুর্নামেন্টে নিজামের রাজ্যের হয়ে দুরন্ত খেলা তিলককে এরপর আর পিছনে ফিরে তাঁকাতে হয়নি। ক্রিকেটের মেগা ইভেন্ট আইপিএল এবং তারপর জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া। এবারের এশিয়া কাপের তিলকের নজরকাড়া পারফরম্যান্স প্রমাণ করে দিল, সে আগামি দিনে ভারতীয় ক্রিকেট মহলে ‘লম্বা রেসের ঘোড়া’। ছন্দে থাকলে যাঁর চওড়া ব্যাট যে কোনও মুশিকল আসানকে সম্ভব করতে প্রস্তুত।





