৩০ বছর দেশসেবা শেষে একি প্রতিদান! বাদুড়িয়ার সুবেদার আজাদের নাম ভোটার তালিকায় নেই
মন্টু সাহাজী, বসিরহাট: উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া ব্লকের রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা আজাদ আলি দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। ১৯৯৫ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কোরপস্ অফ ইলেকট্রনিক অ্যান্ড মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার্স বিভাগে যোগদান করেছিলেন তিনি। গত অক্টোবরে সুবেদার পদমর্যাদা নিয়ে অবসর গ্রহণ করা এই প্রাক্তন সেনাকর্মীর নাম এবার ভোটার তালিকার বিচারাধীন বা বাতিলের তালিকায় ওঠায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। দেশের জন্য লড়াই করা একজন সেনানিকে এভাবে নাগরিকত্বের দোলাচলে পড়তে হওয়ায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে তাঁর পরিবার।
সুবেদার আজাদ আলি তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে ১৯৯৯ সালের অপারেশন বিজয়, ২০০১ সালের অপারেশন পরাক্রম এবং ২০২৫ সালের অপারেশন সি-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তিন বছর জম্মু ও কাশ্মীরে সেবা প্রদানের পাশাপাশি গালোয়ান সংঘর্ষ পরবর্তী সময়ে ইন্দো-চায়না বর্ডারেও তিনি মোতায়েন ছিলেন। আজাদ আলির আক্ষেপ, যে মানুষটি জীবনের তিন দশক দেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যয় করলেন, আজ তাঁরই ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। গত ১৫ নভেম্বর নির্দিষ্ট বুথ লেভেল আধিকারিকের কাছে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র সহ ফর্ম জমা দেওয়ার পরেও কেন তাঁর নাম বিচারাধীন তালিকায় রাখা হলো, তা নিয়ে তিনি বিস্মিত।
আজাদ আলির পরিবারের অন্যান্য ১৫ জন সদস্যের নাম ভোটার তালিকায় বহাল থাকলেও, শুধুমাত্র তাঁর নামই সেখান থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে। তাঁর কন্যা সিমরান আলি প্রশ্ন তুলেছেন, যে বাবা দেশের হয়ে সীমান্তে লড়াই করেছেন, আজ যদি তাঁরই নাগরিকত্বের প্রমাণ নিয়ে টানাপোড়েন তৈরি হয়, তবে আগামী প্রজন্মের কাছে কী বার্তা যাবে। স্থানীয় বাসিন্দা তরিকুল ইসলামও সুবেদার সাহেবের প্রতি সম্মান জানিয়ে বলেন, যাঁর পরিবার বংশপরম্পরায় এই গ্রামেই ভোট দিয়ে আসছে, তাঁর নাম বাতিলের তালিকায় থাকা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বাদুড়িয়ার তৃণমূল কংগ্রেস নেতা বুরহানুল মুকাদ্দিম লিটন এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল সেনাবাহিনীর সাফল্য নিয়ে রাজনীতি করলেও প্রকৃত সেনাকর্মীদের অধিকার রক্ষায় ব্যর্থ। নির্বাচন কমিশনের এই বিষয়ে আরও সংবেদনশীল হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বর্তমানে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন দেশের এই গর্বিত প্রাক্তন সুবেদার মেজর।






