“আগে উন্নয়নের নামে বিভাজনের রাজনীতি হতো!” পূর্ববর্তী সরকারকে আক্রমণ নিশীথের
নিশীথ বলেন, উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা ও বঞ্চনার অনুভূতি বুঝতেই বারবার সেখানে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
Truth of Bengal: উত্তরবঙ্গের পরিকাঠামো, পর্যটন, স্বাস্থ্য, বাণিজ্য এবং কর্মসংস্থানের উন্নয়নে একাধিক পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। তাঁর দাবি, নির্বাচনের আগে বিজেপির ইস্তেহারে উত্তরবঙ্গকে যে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সরকার গঠনের পর তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। নিশীথ বলেন, উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা ও বঞ্চনার অনুভূতি বুঝতেই বারবার সেখানে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, “মাত্র ৮১ দিনের সরকারের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী সাতবার উত্তরবঙ্গ সফর করেছেন। তিনি বেড়াতে যাননি, কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে গিয়েছেন।” পূর্ববর্তী সরকারকে আক্রমণ করে মন্ত্রীর অভিযোগ, প্রশাসনিক বৈঠকের নামে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হলেও উত্তরবঙ্গের স্থায়ী উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হয়নি। প্রকাশ্যে উন্নয়নের কথা বলা হলেও আড়ালে বিভাজনের রাজনীতি চলত বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে উন্নয়নের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় দেখা হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন নিশীথ। তাঁর বক্তব্য, কোনও এলাকার বিধায়ক শাসক দলের না বিরোধী দলের, তা বিবেচনা না করে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রেই সমানভাবে কাজ করা হবে। নদীভাঙন রোধ এবং গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর দাবি, প্রতি বছর উত্তরবঙ্গের প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় ১০টি করে ছোট সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। নদীর গতিপথ নিয়ন্ত্রণ এবং ভাঙন ঠেকাতেও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কাজ করা হবে। মালদহ এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন নিশীথ। উত্তরবঙ্গজুড়ে ১০০টি পর্যটন তথ্যকেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে হোম স্টে, ফুড প্লাজা, স্থানীয় হস্তশিল্প ও জনপ্রিয় পণ্যের প্রদর্শন এবং বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে। পর্যটকদের সুবিধার জন্য এলিভেটেড পর্যটনকেন্দ্র ও রিফ্রেশমেন্ট সেন্টার তৈরির কথাও জানিয়েছেন তিনি। সান্দাকফুতে কন্টেনার হোম এবং পাহাড়ি এলাকায় যানজট কমাতে হাইড্রোলিক পার্কিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
সীমান্ত বাণিজ্য বাড়াতে নতুন ল্যান্ড পোর্ট তৈরি করবে রাজ্য সরকার। নিশীথের অভিযোগ, জমি না পাওয়ায় আগের আমলে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি। ল্যান্ড পোর্ট তৈরি হলে বাণিজ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে দাবি তাঁর। দার্জিলিংয়ে একটি ট্রমা কেয়ার সেন্টার তৈরির কথাও ঘোষণা করেছেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী। অসম-বাংলা সীমান্তে রাজ্যের ঐতিহ্য ও গরিমাকে তুলে ধরে নতুন প্রবেশ তোরণ নির্মাণ করা হবে। ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নয়নে উত্তরবঙ্গের প্রতিটি জেলায় কমিউনিটি হল-সহ ইন্ডোর স্টেডিয়াম তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামকে নতুনভাবে সাজানো হবে। পাশাপাশি গাজোল অথবা চাঁচলেও একটি নতুন স্টেডিয়াম তৈরির প্রস্তাব রয়েছে। চলচ্চিত্র নির্মাতাদের উত্তরবঙ্গে শুটিংয়ের অনুমতি পেতে যাতে একাধিক দপ্তরে ঘুরতে না হয়, তার জন্য সিঙ্গল উইন্ডো ব্যবস্থা চালু করা হবে। স্থানীয় সংগীত ও লোকসংস্কৃতি সংরক্ষণের জন্যও পৃথক পরিকাঠামো তৈরির আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী।
কৃষিপণ্য বিপণনেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। শিলিগুড়ির আনারস হাবের ধাঁচে মালদহের আমের জন্য বিশ্বমানের বাজার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে চাষি ও ব্যবসায়ীরা সরাসরি উপকৃত হবেন বলে দাবি সরকারের। নিশীথ আরও জানিয়েছেন, উত্তরবঙ্গে রাস্তা নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু হবে। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরে আগের আমলের অনিয়ম খতিয়ে দেখে ইতিমধ্যেই ১২২টি সংস্থাকে শোকজ করা হয়েছে এবং কয়েকটি সংস্থাকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। আগামী দিনে সমস্ত বিধানসভা এলাকায় সমানভাবে অর্থ বরাদ্দ এবং উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।






