“বংশগ্রহণমূলক পঞ্চায়েতের দিন শেষ!” ১০০ দিনের কাজের কাটমানি রুখতে পঞ্চায়েত আইনে আমূল বদল আনছে রাজ্য
শনিবার বিধানসভায় বিপুল ভোটে পাস হয়েছে এই বিল
Truth of Bengal: তৃণমূল আমলে রাজ্যের পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় অতিরিক্ত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে পঞ্চায়েত আইন সংশোধনের পথে হাঁটল রাজ্য সরকার। ১০০ দিনের কাজ, সরকারি প্রকল্প ও বিভিন্ন টেন্ডারে কাটমানি এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ঠেকাতেই পঞ্চায়েত প্রধানদের আর্থিক ক্ষমতায় রাশ টানার প্রস্তাব রাখা হয়েছে নতুন সংশোধনী বিলে। শনিবার বিধানসভায় বিপুল ভোটে পাস হয়েছে এই বিল। নতুন আইন অনুযায়ী, পঞ্চায়েতের বিভিন্ন বিল এবং অর্থ ছাড় সংক্রান্ত নথিতে আর প্রধানের পরিবর্তে স্বাক্ষর করবেন পঞ্চায়েতের সচিব। তবে সংশ্লিষ্ট কাজ বা প্রকল্পে অনুমোদন দেওয়ার ক্ষমতা প্রধানের হাতেই থাকবে। সরকারের দাবি, এর ফলে পঞ্চায়েতের পরিষেবা আরও দ্রুত, স্বচ্ছ এবং দুর্নীতিমুক্ত ভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
বিলের সমর্থনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, “সংবিধানপ্রদত্ত কোনও অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়নি। আমরা শুধু কাটমানি খাওয়ার অধিকার কেড়ে নিচ্ছি। অনুমতি প্রধানই দেবেন, কিন্তু বিলে স্বাক্ষর করবেন সচিব।” মন্ত্রী জানান, রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু হয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির কাজও ফের শুরু করা হয়েছে। সংশোধিত আইনে অন্নপূর্ণা যোজনা, আয়ুষ্মান এবং জি রাম জি-সহ বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ ছাড়ের দায়িত্ব রাজনৈতিক স্তরের পরিবর্তে প্রশাসনিক আধিকারিকদের হাতে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ করতেই এই পদক্ষেপ বলে দাবি সরকারের।
দিলীপ ঘোষ বলেন, “বিডিও, এসডিও এবং জেলাশাসক বিভিন্ন নথিতে স্বাক্ষর করেন। পঞ্চায়েত প্রধানের বদলে সচিব স্বাক্ষর করলে অসুবিধা কোথায়? গরিব মানুষ কাজ করেও টাকা পাননি। ১০০ দিনের কাজের টাকা আবার আসবে, কাজও হবে। আমরা চাই সেই টাকা সরাসরি মানুষের হাতে পৌঁছক। সেই কারণেই এই সংশোধন।” বিরোধীদের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, পুরসভাগুলিতে দীর্ঘদিন নির্বাচন না করিয়ে প্রশাসক বসিয়ে রাখা হয়েছিল। আদালত সেই ব্যবস্থাকে অবৈধ বলার পরেও নিজেদের পছন্দের চেয়ারম্যান বসানো হয়েছে। পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় এমন অনিয়ম বন্ধ করতেই সংশোধনী বিল আনা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বিলের আলোচনায় অংশ নিয়ে মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেন। তাঁর বক্তব্য, “গত ১৫ বছরে অংশগ্রহণমূলক পঞ্চায়েতের বদলে বংশগ্রহণমূলক পঞ্চায়েত ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল। তৃণমূল পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে ভেঙে দিয়েছে। এখন চুরি করে নির্বাচিত অনেক প্রধান পঞ্চায়েতেই আসছেন না। সেই কারণেই ব্যবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন।”






