“সিকিমে যাস না বাবা!” বারণ শোনেনি ছেলে, সন্তানের জন্য হাহাকার মায়ের
মায়ের কথা না শুনেই বন্ধুদের সঙ্গে সিকিমে চলে যান অর্জুন
Truth of Bengal: ছেলে কাজে গিয়েছে, কয়েক দিন পরই বাড়ি ফিরবে—এই আশাতেই দিন গুনছিল পরিবার। হয়তো ফেরার সময় সবার জন্য কিছু উপহারও নিয়ে আসবে। কিন্তু এখন উপহারের অপেক্ষা নেই, নেই ছেলের হাসিমুখ দেখার প্রত্যাশাও। নাগরাকাটার সুখানী বস্তিতে শূন্য দৃষ্টিতে ছেলের মরদেহ ফেরার অপেক্ষায় বসে রয়েছেন পার্বতী সাওতাল। বারবার ছেলেকে সিকিমে যেতে নিষেধ করেছিলেন তিনি। পাহাড়ি এলাকায় ধস এবং রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা বুঝিয়ে অন্য কোথাও কাজে যাওয়ার অনুরোধও করেছিলেন। কিন্তু মায়ের কথা না শুনেই বন্ধুদের সঙ্গে সিকিমে চলে যান অর্জুন। সেই আক্ষেপই এখন বারবার ফিরে আসছে পার্বতীর কথায়।
চোখের জল মুছতে মুছতে তিনি বলেন, “অনেকবার বলেছিলাম, সিকিমে যাস না বাবা। অন্য কোথাও গিয়ে কাজ কর। কিন্তু আমার কথা শুনল না। শেষ পর্যন্ত সিকিমেই চলে গেল। এখন আমার ছেলেটাই আর ফিরবে না।” ছেলের মৃত্যুসংবাদ পৌঁছনোর পর থেকেই কার্যত ভেঙে পড়েছেন পার্বতী। খাওয়াদাওয়া প্রায় বন্ধ। পরিবারের সদস্যদের দাবি, কয়েক দিন ধরে বন্ধুদের সঙ্গে সিকিমে কাজে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন অর্জুন। সেই কথা জানতে পেরেই তাঁকে আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন মা। পার্বতীর আশঙ্কা ছিল, সিকিমের পাহাড়ি এলাকায় প্রায়ই ধস নামে এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাই ছেলেকে সেখানে পাঠাতে রাজি ছিলেন না তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মায়ের আশঙ্কাই যেন নির্মম বাস্তব হয়ে ফিরে এল।
অর্জুন কীভাবে নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গের কাজে যুক্ত হয়েছিলেন, তা পরিবারের কাছে এখনও স্পষ্ট নয়। কাজের দায়িত্ব, নিয়োগকারী সংস্থা কিংবা সেখানে তাঁর ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছুই জানতেন না পরিজনেরা। গত সোমবার সিকিমের নামচি জেলার সামারদুং এলাকায় তিস্তা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে মিথেন গ্যাস লিকের পর বিস্ফোরণের সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। বিস্ফোরণের অভিঘাতে ধস নেমে সুড়ঙ্গের মুখ বন্ধ হয়ে যায় এবং ভিতরে আটকে পড়েন একাধিক শ্রমিক। শেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের মধ্যে ১১ জন পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। তাঁদের মধ্যে মেটেলির ছ’জন এবং নাগরাকাটার তিনজন রয়েছেন। নাগরাকাটার নিহত তিন শ্রমিকই আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের সদস্য ছিলেন।


