ভোটের আগেই বড় জয় কংগ্রেসের! ফরাক্কার প্রার্থীর নাম কাটার সিদ্ধান্ত বাতিল করল ট্রাইবুনাল
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় মহতাবের প্রার্থীপদ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তার অবসান ঘটল রবিবার।
Truth of Bengal: মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা বিধানসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী মহতাব শেখের ভাগ্য নির্ধারণে ঐতিহাসিক রায় দিল এসআইআর (SIR) ট্রাইবুনাল। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় মহতাবের প্রার্থীপদ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তার অবসান ঘটল রবিবার। কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, অবিলম্বে মহতাব শেখের নাম ভোটার তালিকায় ফেরাতে হবে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়ার পর ট্রাইবুনালের দেওয়া এটিই প্রথম রায়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কমিশন যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল, সেখানে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলছিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে। সেই প্রক্রিয়াতেই মহতাব শেখের নাম বাদ যায়, যার ফলে কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারছিলেন না। ট্রাইবুনাল গঠিত হলেও কাজ শুরু না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। শীর্ষ আদালতের নির্দেশে দ্রুত শুনানির পর সল্টলেকের বিজন ভবনে ট্রাইবুনালে আবেদন করেন মহতাব।
আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী ফিরদৌস শামিম এবং গোপা বিশ্বাস সওয়াল করেন যে, মহতাবের আধার কার্ড, পাসপোর্ট এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সের মতো সমস্ত বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। ট্রাইবুনাল পর্যবেক্ষণ করে জানায়, মহতাবের বাবার নামের ক্ষেত্রে কিছু ‘তথ্যগত অসঙ্গতি’ থাকতে পারে, কিন্তু মহতাবের ব্যক্তিগত নথিতে কোনও ত্রুটি নেই। তাই তাঁর ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া আইনত সংগত নয়। ট্রাইবুনাল নির্দেশ দিয়েছে, “রবিবার রাত ৮টার মধ্যে অতিরিক্ত তালিকায় মহতাব শেখের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।”
ফরাক্কায় প্রথম দফায় নির্বাচন হতে চলেছে এবং মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৬ এপ্রিল, সোমবার। ট্রাইবুনালের এই রায়ের ফলে মহতাবের প্রার্থী হিসেবে লড়াই করার পথ প্রশস্ত হলো। এর আগে কলকাতা হাইকোর্ট এই মামলা শুনতে অস্বীকার করে জানিয়েছিল যে, এসআইআর সংক্রান্ত বিষয়গুলি সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের এক্তিয়ারভুক্ত। শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপে এবং ট্রাইবুনালের এই প্রথম রায়ে স্বস্তিতে কংগ্রেস শিবির। ফরাক্কার লড়াইয়ে এখন মহতাব শেখের প্রত্যাবর্তন রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তাপ বাড়িয়েছে।






