কলকাতা

৩ তলা থেকে ছাদ ওলটপালট, ৫ ঘণ্টা তন্নতন্ন করে তল্লাশি! অভিষেকের বাড়ি থেকে কী পেল পুলিশ?

কলিং বেল বাজলেও খোলেনি দরজা! রাত ৩টেয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ডেকে কার খোঁজে চলল তল্লাশি?

Truth of Bengal: শনিবার ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) কালীঘাটের পটুয়াপাড়ার বাসভবনকে কেন্দ্র করে চলল এক অভূতপূর্ব ও নাটকীয় পুলিশি টানাপোড়েন। মেদিনীপুরের শালবনি থানার পুলিশ বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে প্রায় ৫ ঘণ্টা ধরে অভিষেকের বাড়ি ও সংলগ্ন এলাকা কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখে। কিন্তু এত কাণ্ডের পরও শেষ পর্যন্ত তল্লাশি শেষে পুলিশের হাতে এল শুধুই ‘বিগ জিরো’। নিয়ম অনুযায়ী তল্লাশির পর পুলিশ যে বাজেয়াপ্ত তালিকা (Seizure List) তৈরি করেছে, তাতে স্পষ্ট লেখা রয়েছে ‘নিল’ (Nil)। অর্থাৎ, ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের বাড়ি থেকে আপত্তিকর কিছুই উদ্ধার করতে পারেনি তদন্তকারীরা। এই মেগা অভিযানের আইনি নথিপত্র সোশাল মিডিয়ায় ফাঁস করে একে বিজেপির ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে তীব্র ধিক্কার জানিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ।

ডাকলেও খোলেনি দরজা, ডাক পড়ল বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর

তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষের প্রকাশ করা তথ্য এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাত ঠিক ৩টে নাগাদ শালবনি ও কালীঘাট থানার পুলিশের একটি বিশাল টিম আচমকাই অভিষেকের বাড়ির সামনে এসে হাজির হয়। ৩টে থেকে ৫টা, টানা দু’ঘণ্টা ধরে বাড়ির সদর দরজার সামনে দাঁড়িয়ে পুলিশ আধিকারিকরা ডাকাডাকি করেন, বারবার কলিং বেল বাজানো হয়। কিন্তু ভেতরের সদস্যরা পুলিশকে কোনও রকম সহযোগিতা করেননি বা দরজা খোলেননি বলে অভিযোগ।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by Truth Of Bengal (@truth_of_bengal)

অবশেষে ভোর ৫টা নাগাদ পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দরজা ও তালা ভাঙার জন্য ডেকে আনা হয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (DMG) স্পেশাল টিমকে। সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে পুলিশ। এরপর অভিষেকের তিন তলা বাড়ি থেকে শুরু করে ছাদ পর্যন্ত প্রতিটি কোণায় টানা ৯০ মিনিট ধরে তন্নতন্ন করে সার্চ অপারেশন চালানো হয়।

জমি দুর্নীতির জেরেই কি এই হানা?

হঠাৎ কেন এই কাকভোরে হানা? পুলিশ সূত্রে খবর, সম্প্রতি মেদিনীপুরের জমি দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়া প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরাকে ম্যারাথন জেরা করে উঠে এসেছে অভিষেকের আপ্তসহায়ক (PA) সুমিত রায়ের নাম। গোয়েন্দারা সুমিতের মোবাইলের শেষ টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে জানতে পারেন, তিনি কালীঘাটের এই বাড়িতেই অবস্থান করছেন। সেই সূত্রেই পুলিশের ধারণা ছিল যে সুমিতকে হয়তো এখানে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু পুরো বাড়ি খোঁজার পরও তাঁর কোনও হদিস মেলেনি।

এই ঘটনার খবর পেয়ে সকালেই ছুটে এসেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তল্লাশি শেষে অভিষেক নিজে বাইরে বেরিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “তালা ভেঙে ঢুকে ওরা আমার পুরো বাড়ি সার্চ করেছে। সিসিটিভিতে সব রেকর্ড রয়েছে। আমি কাউকে লুকিয়ে রাখিনি, তাই কিছু পায়নি।” অন্যদিকে এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে মোদি সরকারকে তীব্র আক্রমণ শেনে সাগরিকা ঘোষ লিখেছেন, “কোনও প্রমাণ নেই, কোনও ভুল কাজ হয়নি। এটা আসলে বিজেপির ইশারায় চালানো ‘অপারেশন লোটাস’ (Operation Lotus)। যারা মাথা নত করছে না, তাঁদের ওপর এই লজ্জাজনক আক্রমণ অত্যন্ত ঘৃণ্য।” সব মিলিয়ে, বঙ্গে বিজেপি-তৃণমূলের এই আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই এবার চরমে পৌঁছল।

Related Articles