কলকাতা

অনুপ্রবেশে বদলেছে বাংলার জনবিন্যাস! বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে উদ্বেগ প্রকাশ রাজ্যপালের

বৃহস্পতিবার থেকে রাজ্য বিধানসভায় শুরু হয়েছে নবগঠিত বিজেপি সরকারের প্রথম ঐতিহাসিক বাজেট অধিবেশন।

Truth of Bengal: পশ্চিমবঙ্গের অরক্ষিত আন্তর্জাতিক সীমান্তের সুযোগ নিয়ে লাগাতার অনুপ্রবেশের কারণে রাজ্যের জনবিন্যাসে যে মারাত্মক বদল এসেছে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সরব রাজনৈতিক মহল। ইতিপূর্বে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই জনবিন্যাস পরিবর্তনের আবহে আসন্ন জনগণনা প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেছিলেন। এবার ঠিক একই সুর শোনা গেল রাজ্যপাল আর এন রবির মুখেও। বৃহস্পতিবার থেকে রাজ্য বিধানসভায় শুরু হয়েছে নবগঠিত বিজেপি সরকারের প্রথম ঐতিহাসিক বাজেট অধিবেশন। অধিবেশনের শুরুর দিনেই প্রথাগত ভাষণে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের একাধিক জনকল্যাণমূলক কাজের ভূয়সী প্রশংসা করার পাশাপাশি অনুপ্রবেশের ফলে বাংলার জনবিন্যাস বদলে যাওয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাজ্যপাল।

এদিন বিধানসভার মণ্ডপে দাঁড়িয়ে রাজ্যপাল স্পষ্ট জানান যে, লাগাতার অনুপ্রবেশের কারণে সীমান্তবর্তী জেলাগুলির জনবিন্যাস ক্রমশ পালটে যাচ্ছে, যা রাজ্যের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও এক বড়সড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তবে এই অনুপ্রবেশ রুখতে নতুন রাজ্য সরকার যে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে, তাও তিনি উল্লেখ করেন। রাজ্যপাল রবি বলেন, “সীমান্ত সুরক্ষাকে মজবুত করতে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা কাঁটাতার বসানোর কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছে। এই উদ্দেশ্যে রাজ্য সরকারের তরফে ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় জমিও বিএসএফ (BSF)-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকারের কাছে রাজ্যের সার্বিক নিরাপত্তা এবং আমজনতার সুরক্ষাই সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। আর এই উদ্দে্শ্যেই আগামী দিনে সঠিক অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করতে জনগণনা করা যে কতটা জরুরি, তাও রাজ্যপালের ভাষণে বিশেষভাবে উঠে আসে।

উল্লেখ্য, লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের সময় বঙ্গে প্রচারে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বারবার এই অনুপ্রবেশ ও জনবিন্যাস পরিবর্তনের বিষয়টি তুলে ধরে সুর চড়িয়েছিলেন। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরপরই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফ-কে পর্যাপ্ত জমি দেওয়ার ফাইল অনুমোদন করেন, যার কাজ এখন গতি পেয়েছে। এখানেই শেষ নয়, অনুপ্রবেশকারীদের আটকাতে নতুন সরকারের তরফে অত্যন্ত কড়া আইন কার্যকর করা হয়েছে; যেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করা বাংলাদেশিদের আইনি দীর্ঘসূত্রতার মধ্যে না ফেলে সরাসরি আদালতের বদলে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হবে এবং বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক’ করা হবে। এই কড়া বার্তার পরই সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার হিড়িক দেখা গিয়েছে। এই সামগ্রিক পরিস্থিতির মাঝেই আগামী ১ আগস্ট থেকে রাজ্যে বহু প্রতীক্ষিত জনগণনার কাজ শুরু হতে চলেছে, যার ঠিক প্রাক্কালে রাজ্যপালের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।