মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের বড় সিদ্ধান্ত খারিজ! কারুর পদপিষ্ট কাণ্ডে মৃতদের স্বজনদের সরকারি চাকরিতে স্থগিতাদেশ হাই কোর্টের
এই পর্যবেক্ষণ করে নিয়োগের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মাদ্রাজ হাই কোর্ট
Truth of Bengal: তামিলনাড়ুর কারুরে রাজনৈতিক সমাবেশে পদপিষ্ট হয়ে মৃত ৪১ জনের পরিবারের সদস্যদের সরকারি চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্তে আইনি ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার। সহানুভূতির ভিত্তিতে সাংবিধানিক নিয়ম উপেক্ষা করে সরকারি চাকরি দেওয়া যায় না—এই পর্যবেক্ষণ করে নিয়োগের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মাদ্রাজ হাই কোর্ট। সোমবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি সিভি কার্তিকেয়ন এবং বিচারপতি আর শক্তিভেলের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে সরাসরি সরকারি চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত আইনসম্মত নয়। আদালতের মতে, এই সিদ্ধান্ত সংবিধানের ১৪ এবং ১৬ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। ওই দুই অনুচ্ছেদ সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে সমতা এবং সকলের জন্য সমান সুযোগের অধিকার নিশ্চিত করে।
গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর টিভিকে প্রধান সি জোসেফ বিজয়ের জনসভা চলাকালীন কারুরে ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে মৃত্যু হয় ৪১ জনের। আহত হন আরও অনেকে। দুর্ঘটনার পর সমাবেশের ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠে। তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের পর মে মাসে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিজয়। এরপর ১০ জুলাই প্রথম সরকারি সফরে কারুরে গিয়ে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করেন তিনি। পরিবারপিছু ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি একজন সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়ার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
পরবর্তী সময়ে ৩১টি পরিবারের সদস্যদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। তাঁদের জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট, অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং ওয়াচম্যানের মতো পদে নিয়োগ করা হয়েছিল। স্কুলশিক্ষা, রাজস্ব এবং গ্রামীণ উন্নয়ন-সহ রাজ্যের একাধিক দপ্তরে তাঁদের কাজের ব্যবস্থা করা হয়। তবে নিয়োগগুলি স্থায়ী না হয়ে অস্থায়ী ভিত্তিতে ছিল। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হন এআইডিএমকের প্রবীণ নেতা আর বি উদয়কুমার। তাঁর অভিযোগ, নিয়ম না মেনে সরাসরি সরকারি চাকরি দেওয়া রাজ্যের লক্ষ লক্ষ চাকরিপ্রার্থীর প্রতি অন্যায়। সরকারি চাকরি পাওয়ার আশায় বহু তরুণ-তরুণী দীর্ঘদিন ধরে কঠোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁদের পাশ কাটিয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে নিয়োগ দেওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। উদয়কুমারের আরও দাবি, রাজনৈতিক বা আবেগজনিত কারণে সরকারি চাকরি দেওয়া হলে তা ভবিষ্যতের জন্য বিপজ্জনক নজির তৈরি করবে। এতে প্রশাসনিক নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল বার্তা যেতে পারে।




