কলকাতা

“ভিড় দেখেই কি দুর্ব্যবহার?” একুশের মঞ্চের পর ফের মমতা-অভিষেককে বেনজির তোপ কল্যাণের!

একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আচরণে তিনি অপমানিত হয়েছেন বলে দাবি করার পর এবার ফের দলনেত্রী ও অভিষেককে নিশানা করলেন কল্যাণ

Truth of Bengal: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই টালমাটাল তৃণমূল। একের পর এক নেতা দল ছাড়লেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থেকে গিয়েছেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে গত দু’মাসে দলনেত্রী ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিকবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। কখনও সেই দূরত্ব মিটিয়ে ফের ‘দিদি’র পাশে দাঁড়িয়েছেন, আবার কখনও প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন দলের সিদ্ধান্ত নিয়ে। একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আচরণে তিনি অপমানিত হয়েছেন বলে দাবি করার পর এবার ফের দলনেত্রী ও অভিষেককে নিশানা করলেন কল্যাণ। তাঁর বক্তব্য, শহিদ দিবসের সমাবেশে প্রত্যাশার তুলনায় বেশি ভিড় দেখে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন মমতা। সেই কারণেই তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ সাংসদের। এই মন্তব্যের পরই কল্যাণের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং সম্ভাব্য দলত্যাগ নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে কল্যাণের বক্তব্য দীর্ঘ হয়ে যাওয়ায় মমতা প্রকাশ্যেই অসন্তোষ প্রকাশ করেন বলে অভিযোগ। পরে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটিও হয়। ক্ষুব্ধ কল্যাণ অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে চলে যান। এরপর সমাজমাধ্যমে দীর্ঘ পোস্ট করে দলের অন্দরের একাংশকে নিশানা করেন তিনি। সেখানেই না থেমে মঙ্গলবার ফের বিস্ফোরক মন্তব্য করেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। তাঁর কথায়, “আমার কোনওদিনই গুরুত্ব ছিল না। সবাই চলে যাওয়ার পর আমি থেকে গিয়েছিলাম। একুশে জুলাইয়ের ভিড় দেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন। সেই কারণেই আবার আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে।” দলের নেতৃত্ব নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন কল্যাণ। তিনি বলেন, “রক্তের সম্পর্কের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেত্রী হননি। তিনি দল তৈরি করেছিলেন। আবার তিনিই দলটাকে শেষ করেছেন। সব সময় শুধু অভিষেক, অভিষেক করলে চলবে না। ডেরেক বা অভিষেক যা বলবেন, সেটাই শেষ কথা হতে পারে না। আমি অন্যদের মতো নই।”

একুশের মঞ্চে তাঁর দীর্ঘ বক্তৃতার কারণে দুই মহিলা নেত্রী বক্তব্য রাখার সুযোগ পাননি বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা-ও খারিজ করেছেন কল্যাণ। তাঁর দাবি, ওই দুই নেত্রীর নাম বক্তাদের তালিকায় তিনিই যুক্ত করেছিলেন। ফলে তাঁদের বক্তব্য আটকানোর কোনও প্রশ্নই ওঠে না। গত কয়েক মাসে রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ আমূল বদলে গিয়েছে। ক্ষমতা হারানোর পর একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ কালীঘাট তৃণমূলের কাছে কার্যত শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চে পরিণত হয়েছিল। সেই সভার জমায়েত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। কল্যাণের অভিযোগ, সেই আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার পরই তাঁর প্রতি পুরনো অবহেলার মনোভাব আবার সামনে এসেছে। তবে কল্যাণের একের পর এক প্রকাশ্য আক্রমণের পর তিনি আদৌ কালীঘাট শিবিরে থাকবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব দ্রুত পরিস্থিতি সামাল না দিলে তৃণমূলের অন্দরের এই দ্বন্দ্ব আরও বড় আকার নিতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Related Articles