জ্ঞানেশের ইস্তফার দাবিতে উত্তাল দিল্লি, প্রিয়াঙ্কার রাস্তায় শুয়ে প্রতিবাদ, রাহুল-ডেরেকদের আটক করল পুলিশ
যন্তর মন্তরে রাজপথেই শুয়ে পড়লেন প্রিয়াঙ্কা! রাহুল-ডেরেককে টেনে হিঁচড়ে গাড়িতে তুলল দিল্লি পুলিশ
Truth of Bengal: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনেও উত্তাল হয়ে উঠল জাতীয় রাজধানী দিল্লি। মঙ্গলবার ‘নির্বাচন সদন’ অভিযানের পর বুধবার বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA)-র সাংসদেরা বাসে সওয়ার হয়ে যন্তর মন্তরের দিকে রওনা দিলে মাঝপথেই তাঁদের পথ অবরুদ্ধ করে দিল্লি পুলিশ। এরপরই বাসের বাইরে এবং রাজপথে শুরু হয় ব্যাপক ধস্তাধস্তি, বিক্ষোভ ও চরম উত্তেজনা।
ঘটনাচক্রে, বুধবার যন্তর মন্তর অভিযানের আগে মধ্য দিল্লির জনপথের ‘সাগররত্ন’ রেস্তোরাঁয় বিরোধী দলগুলির শীর্ষ নেতারা এক জরুরি মধ্যাহ্নভোজ বৈঠকে বসেন। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গের আহ্বানে আয়োজিত এই বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ ও পরবর্তী রাজনৈতিক রণকৌশল নির্ধারণ করা হয়। সেখান থেকেই বাসে চেপে যন্তর মন্তরের উদ্দেশ্যে রওনা হন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বাডরা ও তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন।
কিন্তু আগে থেকেই যন্তর মন্তর চত্বরে ১৬৩ ধারা (পূর্বতন ১৪৪ ধারা) জারি রেখেছিল দিল্লি পুলিশ। বাসের গতি আটকে দেওয়া মাত্রই ক্ষুব্ধ বিরোধী নেতারা বাস থেকে নেমে পড়ে পদযাত্রা শুরু করেন। এনএসইউআই (NSUI)-এর ছাত্র-যুব সমর্থকেরা সেখানে উপস্থিত হলে পুলিশ দমনপীড়নের নীতি গ্রহণ করে বলে অভিযোগ। পুলিশি হেনস্থা ও বাধা প্রদানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে রাস্তার ওপরেই শুয়ে পড়েন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ একাধিক মহিলা সাংসদ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও ডেরেক ও’ব্রায়েনদের চড়াও হয়ে টেনেহিঁচড়ে প্রিভেন্টিভ কাস্টডিতে নেওয়া হয়।
দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শচীন শর্মা জানান, ১৬৩ ধারা জারি থাকায় আগাম অনুমতি ছাড়া কোনও রাজনৈতিক জমায়েত আইনত দণ্ডনীয়। তাই আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই প্রয়োজনীয় কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ‘ভোটচুরি’ এবং নির্বাচন কমিশনের ‘স্বেচ্ছাচারী’ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আগামী দিনে লড়াই আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিরোধী জোট।





