অমিত শাহ মানহানি মামলায় বিরাট স্বস্তি! আদালতে বেকসুর খালাস রাহুল গান্ধী
আদালতে সশরীরে হাজির রাহুল! ২০১৮ সালের হাইপ্রোফাইল মানহানি মামলায় ঐতিহাসিক রায় এমপি-এমএলএ বিচারকের
Truth of Bengal: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে দায়ের হওয়া বহুচর্চিত মানহানি মামলায় শেষমেশ বড়সড় আইনি জয় পেলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। ২০১৮ সালে দায়ের হওয়া সেই বিতর্কিত মামলায় সোমবার তাঁকে সম্পূর্ণ বেকসুর খালাস ঘোষণা করল উত্তরপ্রদেশের সুলতানপুরের বিশেষ এমপি-এমএলএ (MP-MLA) আদালত। এদিন বিচারক শুভম বর্মা এই হাইপ্রোফাইল মামলার রায় ঘোষণা করতে গিয়ে পর্যবেক্ষণ করে জানান যে, রাহুল গান্ধীর করা বক্তব্যটি কোনওভাবেই মানহানিকর নয়। গুরুত্বপূর্ণ এই রায় ঘোষণার ঐতিহাসিক মুহূর্তে আদালতে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন খোদ রাহুল গান্ধীও।
ঘটনার নেপথ্যে ফিরে তাকালে দেখা যাবে, ২০১৮ সালে কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনের সময়ে এক প্রচারসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে অমিত শাহকে কড়া ভাষায় নিশানা করেছিলেন তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় তিনি বলেছিলেন, “সাধারণ মানুষ ভুলে যান যে বিজেপির সভাপতি একজন খুনের মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি।” উল্লেখ্য, সেই সময়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন অমিত শাহ। ওই মঞ্চ থেকে বিতর্কিত সোহরাবুদ্দিন এনকাউন্টার মামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরেছিলেন রাহুল, যদিও ওই সুনির্দিষ্ট মামলায় ২০১৪ সালেই সিবিআইয়ের বিশেষ আদালত অমিত শাহকে সমস্ত অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস করেছিল। শাহের উদ্দেশে এমন বিস্ফোরক মন্তব্যের জেড়েই বিজেপির তৎকালীন জেলা সহ-সভাপতি বিজয় মিশ্র ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৯ ও ৫০০ ধারায় রাহুলের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা ঠুকে দেন।
মামলা চলাকালীন ২০২৩ সালে এই বিশেষ আদালতে সশরীরে হাজিরা দিয়ে জামিন পেয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে চলতি বছরের ১৩ অক্টোবর এই মামলার রায় বেরোনোর কথা থাকলেও, তা পিছিয়ে সোমবার অর্থাৎ ২৬ অক্টোবর চূড়ান্ত রায়ের দিন ধার্য করা হয়েছিল। শুনানিতে রাহুলের পক্ষে অভিজ্ঞ সিনিয়র আইনজীবী আরএস চিমা জোরদার সওয়াল করেন এবং দুই পক্ষের দীর্ঘ যুক্তিতর্ক শোনার পরই বিচারক রাহুলকে মামলা থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি দেন।
তবে এদিনের আদালতে হাজিরার সফরটি মোটেই মসৃণ ছিল না রাহুলের জন্য। লখনউ থেকে সুলতানপুর আদালতের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়েতে আচমকাই এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে রাহুল গান্ধীর কনভয়। গন্তব্যস্থল থেকে মাত্র ৩৫ কিলোমিটার দূরে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে থাকা একটি অ্যাম্বুল্যান্স পিছন থেকে রাহুলের সুরক্ষা কনভয়ের একটি গাড়িতে সজোরে ধাক্কা মারে। সেই তীব্র আঘাতের ধাক্কায় পর পর পাঁচটি নিরাপত্তা গাড়ি একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় রাহুলের বেশ কয়েকজন ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী চোট পেলেও, রাহুলের গাড়িটি বেশ খানিকটা দূরে থাকায় তিনি সম্পূর্ণ অলৌকিকভাবে অক্ষত থাকেন। দুর্ঘটনার প্রাথমিক আতঙ্ক সামলে নির্ধারিত সময়েই শান্তভাবে আদালতে পৌঁছান ও রায় শুনে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন বিরোধী দলনেতা।






