১১ হাজার কোটি টাকার বিশাল ক্ষতি! রামলীলা ময়দানে ‘ইন্ডিয়া’র সমাবেশে খাঁড়ার ঘা ব্যবসায়ীদের
এই বিশাল ক্ষতি মেটাবে কে?" রাহুল গান্ধীকে চিঠি সিটিআই-এর, পালটা বিজেপির ঘাড়েই দোষ চাপালেন বিরোধী দলনেতা!
Truth of Bengal: আশঙ্কার পারদ ছাপিয়ে ক্ষতির অঙ্ক দাঁড়াল কল্পনাতীত পর্যায়ে! আশঙ্কা করা হয়েছিল প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে, কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও এক হাজার কোটি টাকা বেশি। গত রবিবার দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের মেগা সমাবেশের কারণে রাজধানীর অন্তত ১১ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্যিক ক্ষতি হয়েছে বলে বিস্ফোরক দাবি করেছে ‘চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’ (CTI)। এই বিপুল আর্থিক ক্ষতির পরিসংখ্যান তুলে ধরে আয়োজকদের বিঁধে সংগঠনের প্রশ্ন, “এই যে বিশাল ক্ষতি হল, তার ক্ষতিপূরণ দেবে কে?”
গত ১ নভেম্বর রবিবারের এই কর্মসূচির আগেই লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে একাধিকবার চিঠি লিখে সতর্ক করেছিলেন সিটিআই-এর চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েল। চিঠিতে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল, প্রায় ১০ লক্ষ মানুষের সমাগম ও অন্তত ২০ হাজার বাসের ভিড়ে স্তব্ধ হবে রামলীলা ময়দান সংলগ্ন এলাকা। ধনতেরাস ও দীপাবলির মুখে সোনা-রুপো, ইলেকট্রনিক্স, পোশাক, বাসনপত্র, মিষ্টি ও গাড়ির বাজারে যেখানে দিল্লিজুড়ে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয়, সেখানে বিরোধীদের সমাবেশের কারণে চরম লোকসানের মুখে পড়তে হবে ব্যবসায়ীদের। সেই কারণে বিক্ষোভ বা সমাবেশটি ১০ নভেম্বরের পর করার আর্জিও জানিয়েছিল সিটিআই।
তবে বিরোধীদের জোট সেই আবেদনে সাড়া দেয়নি। রবিবারের কর্মসূচির পর ক্ষতির চূড়ান্ত বিবরণ দিতে গিয়ে ব্রিজেশ গোয়েল জানান, নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে রামলীলা ময়দানের চারপাশের প্রায় ৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের সমস্ত বাজার ও দোকানপাট জোর করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। যার মধ্যে কাশ্মীরি গেট, কনট প্লেস, সদর বাজার এবং চাঁদনি চকের মতো বিখ্যাত বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই এলাকায় মোট ৩ লক্ষ দোকানের মধ্যে প্রায় আড়াই লক্ষ দোকানই দীপাবলির আগের শেষ রবিবারে বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হয়, যার ফলে সার্বিক ব্যবসার প্রায় ৮০ শতাংশ একধাক্কায় ধ্বংস হয়ে যায়।
সংগঠনের দাবি, শুধু বড় ব্যবসায়ীরাই নন, বাজারে কাজ করা অন্তত ২ কোটি দিনমজুর ও হকারও এই একদিনের অচলাবস্থায় চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এই অভূতপূর্ব ক্ষতির দায় আয়োজকরা নেবেন কিনা, তা নিয়ে সরব হয়েছেন ব্রিজেশ। অন্যদিকে, এই অভিযোগের জবাবে রাহুল গান্ধী দায় ঠেলে দিয়েছেন প্রশাসনের ঘাড়ে। তাঁর বক্তব্য, লোকসানের পেছনে বিরোধী সমাবেশ নয়, বরং বিজেপি সরকারের জোর করে দোকানপাট বন্ধ রাখার একনায়কতান্ত্রিক সিদ্ধান্তই দায়ী।






