“ভোট বাঁচাও নয়, অনুপ্রবেশকারী বাঁচানোর মিছিল!”, হায়দরাবাদের সভা থেকে রাহুল-মমতাকে ধুয়ে দিলেন অমিত শাহ
"বাংলায় তো দিদির সুপরা সাফ হয়ে গিয়েছে!" সোজাসুজি তোপ দেগে বিরোধীদের ছক ভেস্তে দেওয়ার হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
Truth of Bengal: দিল্লিতে বিরোধী ‘ইন্ডি’ জোটের রামলীলা ময়দানের মেগা সমাবেশের ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হায়দরাবাদের বুক থেকে বিরোধীদের কড়া ভাষায় বিঁধলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ‘ভোটচুরি’র অভিযোগ ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে বিরোধীরা যে সুর চড়িয়েছিল, তাকে কার্যত উড়িয়ে দিয়ে শাহ স্পষ্ট জানান, বিরোধীদের এই আন্দোলনের আসল উদ্দেশ্য গণতন্ত্র বাঁচানো নয়, বরং অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করা। সেই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি টেনে এনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও তীব্র আক্রমণ শানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, “পশ্চিমবঙ্গে দিদির তো সুপরা সাফ হয়ে গিয়েছে!”
সোমবার হায়দরাবাদে এক বিশাল জনসভায় দাঁড়িয়ে অমিত শাহ হুংকার দিয়ে বলেন, “কংগ্রেস যে তথাকথিত ‘ভোট বাঁচাও’ মিছিল করছে, তা আসলে ভুয়ো ও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচানোর করুণ চেষ্টা মাত্র। রাহুল গান্ধী বা তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি, যা-ই চেষ্টা করুন না কেন, সব বিফলে যাবে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেও বিজেপি বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিল, অথচ তখন তো কোনও এসআইআর (SIR) হয়নি! তা হলে আমরা কীভাবে জিতলাম?” বিরোধীদের সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে শাহ জানান, তিনি খোলা মঞ্চে এসআইআর এবং ইভিএম (EVM) ইস্যু নিয়ে যে কোনও আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।
ইভিএম কারচুপির অভিযোগে সুর চড়ানো কংগ্রেসকে তীব্র কটাক্ষ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, ইভিএমে যদি সত্যিই কারচুপি থাকত, তবে তেলেঙ্গানায় কংগ্রেস কীভাবে ক্ষমতায় এল? কিংবা কেরলেই বা কীভাবে বিরোধীরা সরকার গড়ল? শাহের বক্তব্য, “সারা দেশের মানুষ কংগ্রেসকে প্রত্যাখ্যান করেছে। ওদের ১০ বছরের শাসনে ১২ লক্ষ কোটি টাকার কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতি হয়েছিল, কিন্তু নরেন্দ্র মোদির ১২ বছরের জমানায় দুর্নীতির একটি আঁচও মেলেনি।”
বিরোধীদের তোলা ১৩ কোটি ভোটারের নাম মুছে ফেলার অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ আখ্যা দিয়ে শাহ প্রশ্ন তোলেন, ভুয়ো বা মৃত ব্যক্তিদের নাম কি ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া উচিত নয়? তিনি আরও ব্যঙ্গ করে বলেন, “জিতলে বলে জনগণ জিতিয়েছে, আর হেরে গেলেই দোষ পড়ে ইভিএমের ওপর! রাহুল গান্ধী চাইলে এভাবে একটা নকল সংসদে নকল প্রধানমন্ত্রী হয়েই বসে থাকতে পারেন।” এভাবেই জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি বাংলাতেও তৃণমূলের রাজনৈতিক অস্তিত্ব শেষ হয়ে এসেছে বলে জোর সওয়াল করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।






