বিনোদন

‘রগড়ানি দিবস’ মন্তব্যের জের? পুরনো পোস্ট ঘিরে আইনি বিপাকে পরমব্রত, এফআইআর খারিজে হাই কোর্টে আবেদন

নিজের বিরুদ্ধে হওয়া ওই এফআইআর সম্পূর্ণ খারিজ করার আবেদন জানিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা করেছেন তিনি

Truth of Bengal: একুশ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বিতর্কিত পোস্টকে কেন্দ্র করে আইনি জটিলতায় পড়েছেন বিশিষ্ট অভিনেতা ও পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। সে সময় ভোট পরবর্তী হিংসায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে সম্প্রতি কলকাতার গড়িয়াহাট থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পাঁচ বছর আগের সেই অতীত পোস্টের জেরে সৃষ্ট এই আইনি বিপাক থেকে রেহাই পেতে এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিনেতা। নিজের বিরুদ্ধে হওয়া ওই এফআইআর সম্পূর্ণ খারিজ করার আবেদন জানিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা করেছেন তিনি। আগামী ২৯ মে এই চাঞ্চল্যকর মামলার শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল মূলত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন। নির্বাচনী প্রচারের মরশুমে তৎকালীন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ শিল্পীদের একাংশকে উদ্দেশ্য করে ‘রগড়ে দেব’ বলে একটি অত্যন্ত বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। পরবর্তীতে নির্বাচনের ফলাফলে তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল ভোটে জয়ী হতেই দিলীপ ঘোষের সেই টিপ্পনির পাল্টা জবাব দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব হয়েছিলেন পরমব্রত। তৃণমূল কংগ্রেস ম্যাজিক ফিগার বা জাদুসংখ্যা ছুঁয়ে ফেলার পরপরই ২ মে বিকেল চারটে নাগাদ পরমব্রত তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে (তৎকালীন টুইটার) লিখেছিলেন, ‘আজ বিশ্ব রগড়ানি দিবস ঘোষিত হোক।’

গড়িয়াহাট থানায় এই এফআইআরটি দায়ের করেছেন আইনজীবী জয়দীপ সেন। তাঁর অভিযোগ, একুশ সালের ভোট পরবর্তী অত্যন্ত উত্তপ্ত ও সংবেদনশীল রাজনৈতিক পরিবেশে পরমব্রতের এই মন্তব্য কার্যত রাজনৈতিক হিংসা ও সন্ত্রাসকে আরও বেশি উস্কে দিয়েছিল। একই সঙ্গে এই মামলায় নাম জড়িয়েছে বিশিষ্ট অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়েরও। অভিযোগকারী আইনজীবীর দাবি, পরমব্রতের সেই পোস্টে সায় দিয়ে স্বস্তিকা পাল্টা লিখেছিলেন, ‘হাহাহা হোক হোক!’ অভিনেত্রীর এই মন্তব্য পরমব্রতের উস্কানির পালে আরও বেশি হাওয়া দিয়েছিল এবং এই দুই তারকার এহেন বক্তব্য তৎকালীন সময়ে আগুনে ঘৃতাহুতির মতো কাজ করেছিল।

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, দুই তারকার এই বিতর্কিত পোস্ট করার ঠিক কয়েক ঘণ্টা বাদেই বেলেঘাটায় বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারকে পিটিয়ে খুন করা হয়। আইনজীবীর দাবি, এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসা ও অরাজকতা বাড়াতে সরাসরি ভূমিকা পালন করেছিল। সে কারণে এই দুই তারকার পোস্ট তৎকালীন ভারতীয় দণ্ডবিধির ১০৭ ধারায় উস্কানিমূলক অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। বর্তমানে দেশে নতুন ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা বিএনএস কার্যকর হলেও, অপরাধের ঘটনাকালের নিরিখে এই মামলায় তৎকালীন আইপিসির ধারাই প্রযোজ্য হবে বলে অভিযোগে জানানো হয়েছে।

গড়িয়াহাট থানায় পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আবেদন জানিয়ে পেশ করা ওই চিঠির বয়ানে উল্লেখ রয়েছে যে, ২০২১ সালের মে মাসের শুরুর দিকে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিজেপি কর্মীদের ওপর ব্যাপক হামলা, খুন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও শারীরিক নির্যাতনের মতো একাধিক মারাত্মক অপরাধমূলক ঘটনা ঘটেছিল। এমনকী বেলেঘাটার অভিজিৎ সরকারের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গটিও অভিযোগপত্রে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক ও বিনোদন মহলে জোর চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে। এই বিষয়ে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় বা স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় এখনও পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমে সরাসরি কোনও প্রতিক্রিয়া না দিলেও, আইনি পথেই এর মোকাবিলা করতে চাইছেন পরমব্রত। এখন আগামী ২৯ মে হাইকোর্ট এই এফআইআর খারিজের আবেদনে কী রায় দেয়, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

Related Articles