পিছিয়ে গেল ডিএ নিয়ে বৈঠক, যৌথ মঞ্চের সঙ্গে কবে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী?
ডিএ নিয়ে নবান্নে শুভেন্দুর মেগা বৈঠকের দিনবদল! সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতার ভাগ্য নির্ধারণ কবে?
Truth of Bengal: রাজ্যে পালাবদলের পর রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) সংক্রান্ত জট কাটাতে বড়সড় তৎপরতা শুরু হয়েছে নবান্নে। তবে যৌথ সংগ্রামী মঞ্চের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর যে বৈঠকটি আগামী শনিবার হওয়ার কথা ছিল, তার দিনক্ষণে কিছুটা বদল আনা হয়েছে। নবান্ন সূত্রে খবর, পূর্ব নির্ধারিত সূচি পরিবর্তন করে এবার আগামী ১ জুন নবান্নে যৌথ সংগ্রামী মঞ্চের নেতাদের মুখোমুখি বসবেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। দীর্ঘদিনের বকেয়া পাওনা এবং কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘ ভাতার দাবিতে আন্দোলনরত রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য এই বৈঠকটি যে অত্যন্ত অর্থবহ হতে চলেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ও নতুন সরকারের ওপর বিপুল আশা
বিগত কয়েক বছর ধরে বকেয়া ডিএ-র দাবিতে কলকাতা থেকে দিল্লি পর্যন্ত আইনি লড়াই ও রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন রাজ্য সরকারি কর্মীরা। মামলা সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ালে শীর্ষ আদালত বকেয়া মেটানোর কড়া নির্দেশও দিয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন তৃণমূল সরকার রাজ্যের বেহাল আর্থিক পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে আদালতে বাড়তি সময় চেয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১৬ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া মহার্ঘ ভাতার ২৫ শতাংশ দু’টি কিস্তিতে মিটিয়ে দেওয়ার একটি ফর্মুলা তৈরি করা হয়। সাধারণ সরকারি কর্মীদের একাংশ সেই টাকা পেলেও, সরকার পোষিত বিভিন্ন সংস্থা এবং বিদ্যালয়ের অগণিত কর্মী এখনও কানাকড়িও পাননি। ফলে বাংলায় ক্ষমতার পালাবদল হতেই সরকারি কর্মচারীরা নতুন বিজেপি সরকারের দিকে আশার বুক বেঁধে তাকিয়ে রয়েছেন।
ক্যাবিনেটে মেলেনি ইঙ্গিত, নজরে এবার ১ জুনের মেগা বৈঠক
কয়েক দিন আগেই রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন ছিল যে, নতুন বিজেপি সরকারের দ্বিতীয় ক্যাবিনেট বা মন্ত্রিসভার বৈঠকেই হয়তো ডিএ এবং বহুল প্রতীক্ষিত সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) নিয়ে বড় কোনও ঘোষণা আসতে পারে। যদিও সেই বৈঠক শেষে রাজ্যের হেভিওয়েট মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল স্পষ্ট করে দেন যে, ক্যাবিনেট বৈঠকে ডিএ নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট আলোচনা হয়নি। এই মন্তব্যের পর সরকারি কর্মীদের একাংশের মনে কিছুটা হতাশা তৈরি হলেও, হাল ছাড়েননি আন্দোলনকারীরা।
যৌথ সংগ্রামী মঞ্চের রাজ্য কনভেনর আশা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, “এত বছর যখন আমরা বঞ্চনা সহ্য করে অপেক্ষা করলাম, তখন সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য আর কয়েকটা দিন না হয় ধৈর্য ধরি।” ১ জুনের এই নবান্নের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে দীর্ঘদিনের এই জটিল আইনি ও অর্থনৈতিক জট সত্যি সত্যি খোলে কি না, এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরকারি কর্মচারীদের মুখে হাসি ফোটাতে কোনও ‘মাস্টারস্ট্রোক’ দেন কি না, এখন সেদিকেই চাতক পাখির মতো চেয়ে রয়েছেন লাখো লাখো রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও তাঁদের পরিবার।






