রাজ্যের খবর

শীতলকুচিতে গাড়ি লক্ষ্য করে দেদার ডিম-বৃষ্টি! দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে হাইকোর্টে মীনাক্ষী

মহুয়া মৈত্রর পর এবার মীনাক্ষী! বাংলায় কেন বারবার ডিম ছুড়ে ‘টার্গেট’ করা হচ্ছে বিরোধীদের?

Truth of Bengal: গত শনিবার কোচবিহারের শীতলকুচি ব্লকের সিংহিমারি গ্রামের বাসিন্দা তথা সক্রিয় সিপিএম কর্মী মণ্টু মিঞা বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। রবিবার সকালে স্থানীয় খুটামারি নদীর ধারে তাঁর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ, মণ্টু পেশায় গরু ব্যবসায়ী হওয়ায় তথাকথিত ‘গোরক্ষক’ বাহিনী তাঁকে পিটিয়ে খুন করেছে। এই খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে মৃত কর্মীর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে শীতলকুচি যান মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। কিন্তু ফেরার পথে শীতলকুচি বাজারের কাছেই তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে শুরু হয় অতর্কিত ডিম-হামলা। একের পর এক ডিম আছড়ে পড়ে গাড়ির উইন্ডস্ক্রিনে, যার ফলে কাচ ঝাপসা হয়ে চালকের দৃষ্টি আটকে যায়।

দাঙ্গাবাজদের এমন কাণ্ড দেখে মীনাক্ষী সেখানেই গাড়ি দাঁড় করিয়ে দেন এবং ক্ষুব্ধ হয়ে নিজেই মোবাইল ক্যামেরায় হামলার ভিডিও রেকর্ড করেন। এই ঘটনায় সরাসরি স্থানীয় বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দিকে আঙুল তুলেছেন বামনেত্রী। দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রাস্তার ওপরেই দীর্ঘক্ষণ ধরনায় বসেন তিনি। পুলিশ নিষ্ক্রিয় থাকায় শেষমেশ বুধবার সকালে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে ঘটনার হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন জানান মীনাক্ষী।

মহুয়া মৈত্রর সেই পুরনো মামলার স্মৃতি, ডিম হামলার গাইডলাইন নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

তাৎপর্যপূর্ণভাবে, বাংলায় রাজনৈতিক নেতাদের গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রও তাঁর ওপর হওয়া অনুরূপ ডিম হামলার বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সেই সময় এই ধরণের নোংরা ও বিপজ্জনক আক্রমণ রুখতে রাজ্য পুলিশকে সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন বা নির্দেশিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছিল উচ্চ আদালত। এবার মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের ওপর হামলার পর সেই নির্দেশিকার বাস্তবায়ন নিয়ে আবারও বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল।

“আইনি পথেই জবাব দেব”, হামলার পর হুঙ্কার ডিওয়াইএফআই নেতৃত্বের

সিপিএম এবং ডিওয়াইএফআই-এর জেলা নেতৃত্বের দাবি, ছাব্বিশের নির্বাচনে বাংলায় ক্ষমতা বদলের পর থেকেই কোচবিহার-সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বিরোধী দলগুলির ওপর প্রতিনিয়ত চড়াও হচ্ছে শাসকদলের গুন্ডাবাহিনী। একজন গরিব কর্মীকে পিটিয়ে খুনের পর যখন মীনাক্ষী সেখানে সান্ত্বনা দিতে গেলেন, তখন সত্য ধামাচাপা দিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, “কারা হামলা করেছে, সব ভিডিওতে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। রাস্তায় গুন্ডামি করে আমাদের মুখ বন্ধ করা যাবে না, আমরা আইনি পথেই এর শেষ দেখে ছাড়ব।” হাইকোর্ট মামলার অনুমতি দেওয়ায় এবার শীতলকুচি থানার পুলিশ প্রশাসনের ওপর যে বড়সড় চাপ সৃষ্টি হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

Related Articles