হকার উচ্ছেদে অনিয়মের অভিযোগ, তিন আধিকারিককে শোকজ, কড়া বার্তা অগ্নিমিত্রার
মন্ত্রী জানান, প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, প্রথমে রাস্তার ধারে অবৈধভাবে বসা দোকানগুলিকে নোটিস দেওয়া হবে।
Truth of Bengal: উজ্জ্বল দাশগুপ্ত, আসানসোল: হকার উচ্ছেদ অভিযানকে ঘিরে প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগে তিন আধিকারিককে শোকজ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, প্রশাসনের অনুমোদিত সিদ্ধান্ত অমান্য করে কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে তা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। শোকজের সন্তোষজনক জবাব না মিললে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে সাসপেনশন-সহ কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, প্রথমে রাস্তার ধারে অবৈধভাবে বসা দোকানগুলিকে নোটিস দেওয়া হবে। পাশাপাশি দুর্গাপুজো ও ছটপুজোর কথা মাথায় রেখে বাজারের ভিতরে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করা পুরনো হকারদের আপাতত উচ্ছেদ না করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগেই তিন আধিকারিকের উদ্যোগে কয়েকটি দোকান ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অগ্নিমিত্রা পালের দাবি, ৯ তারিখেই তদন্তের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছিল। তা সত্ত্বেও ১০ তারিখ কীভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হল, সেই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। সেই কারণেই তাঁদের শোকজ নোটিস পাঠানো হয়েছে।
মন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে কিছু অসাধু আধিকারিক বা কর্মী ইচ্ছাকৃতভাবে এই ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে থাকতে পারেন। বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে বলে তিনি জানান। তাঁর বক্তব্য, যাঁরা নিয়ম ভেঙেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হবে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হকারদের পুনর্বাসনের আশ্বাসও দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি জানান, পুরনো হকারদের তালিকা তৈরি করে তাঁদের নতুন বাজারে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কেন্দ্রের পিএম স্বনিধি প্রকল্পের আওতায় এনে স্বল্পসুদে ঋণের সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা দ্রুত ব্যবসা পুনরায় শুরু করতে পারেন।
ফুটপাত দখল প্রসঙ্গেও কড়া বার্তা দিয়েছেন অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর কথায়, ফুটপাত সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য, তাই বড় দোকান হোক বা ছোট ব্যবসায়ী—কেউই ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করতে পারবেন না। তবে সরকারের লক্ষ্য শুধু উচ্ছেদ নয়, পরিকল্পিত পুনর্বাসনের মাধ্যমে ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা।




