বিনোদন

“শিশু থেকে বৃদ্ধা, কেউই নিরাপদ নয়!” বারুইপুর কাণ্ডে দোষীদের শাস্তির দাবি শুভশ্রীর

বারুইপুরের ঘটনার প্রতিবাদে এবার সরব হলেন অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়

Truth of Bengal: বারুইপুর-কাণ্ডে উত্তাল রাজ্য। নাবালিকাকে গণধর্ষণের পর খুনের অভিযোগে রবিবার সকাল থেকেই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ধপধপি এলাকা। পুকুর থেকে নির্যাতিতার দেহ উদ্ধারের পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। মৃতদেহ রাস্তায় রেখে অবরোধ, রেল অবরোধ—সব মিলিয়ে সপ্তাহান্তের সকাল মুহূর্তেই বদলে যায় শোক ও ক্ষোভে। এই ভয়াবহ ঘটনা অনেকের কাছেই ২০২৪ সালের আর জি কর-কাণ্ডের দুঃসহ স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। বারুইপুরের ঘটনার প্রতিবাদে এবার সরব হলেন অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। আর জি কর-কাণ্ডের সময়ও পথে নেমে প্রতিবাদ করেছিলেন তিনি। এবার নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে গর্জে উঠলেন অভিনেত্রী। সমাজমাধ্যমে তাঁর বক্তব্য, শিশু থেকে বৃদ্ধা—কোনও বয়সই আজ নিরাপদ নয়। বিকৃত মানসিকতার মানুষগুলো থামছে না, আর থামবেও না, যতদিন না তারা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায়।

শুভশ্রীর কথায়, শাস্তির অভাবই অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। বারবার এমন নৃশংস অপরাধ করার সাহস পাচ্ছে তারা। নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধের শেষ কোথায়—সেই প্রশ্নও তুলেছেন অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্য, সোশাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ হচ্ছে, মানুষ রাস্তায় নামছেন, বিক্ষোভ হচ্ছে। কিন্তু তারপরও যেন বাস্তবে কিছুই বদলাচ্ছে না। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও কোনও নারী এই ধরনের বর্বরতার শিকার হচ্ছেন। অভিনেত্রীর মন্তব্য, বারুইপুরের ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, সমাজ হিসেবে আমরা এখনও কতটা অসহায়। তাঁর প্রশ্ন, আর কত নিরীহ নারীকে এমন নৃশংসতার শিকার হতে হবে? আর কত পরিবার ভেঙে যাবে? এই প্রশ্নগুলি এখন শুধু ক্ষোভ নয়, গভীর যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুভশ্রী আরও বলেন, তিনি এমন একটি সমাজের অপেক্ষায় রয়েছেন, যেখানে অপরাধীরা ভয় পাবে এবং নারীরা ভয়মুক্ত হয়ে বাঁচতে পারবেন। নিজেও এক কন্যাসন্তানের মা শুভশ্রী। তাই সমাজের এই অসুস্থতা যে আগামী প্রজন্মের নিরাপত্তার জন্যও ভয়ঙ্কর বার্তা দিচ্ছে, সেটাই স্পষ্ট করে দিয়েছেন অভিনেত্রী।

এদিকে বারুইপুর-কাণ্ডে দ্রুত পদক্ষেপ করেছে রাজ্য সরকার। ঘটনার খবর পাওয়ার পর নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রীর নির্দেশে বিকেলের মধ্যেই ৬ সদস্যের সিট গঠন করা হয়। তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার-সহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, এই ঘটনায় অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এমনকি মৃত্যুদণ্ডের পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি। বারুইপুর-কাণ্ডে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এখন একসুর সাধারণ মানুষ থেকে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ।

Related Articles