অমিত শাহকে নিয়ে আপত্তিকর ভিডিও বানানোর জের! গ্রেফতার কন্টেন্ট ক্রিয়েটর
বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে নিয়মিত ভিডিয়ো তৈরি করে সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করেন তিনি
Truth of Bengal: সীমান্তে কাঁটাতার বসানো এবং অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গ নিয়ে সমাজমাধ্যমে ভিডিয়ো তৈরি করে বিতর্কে মালদহের এক মহিলা কনটেন্ট ক্রিয়েটর। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উদ্দেশে আপত্তিকর ও অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগে মুসু ইয়াসমিন নামে ওই তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে চাঁচল থানার পুলিশ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমেও তাঁর গ্রেপ্তারির খবর প্রকাশিত হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মুসু চাঁচল থানার মোবারকপুর এলাকার বাসিন্দা। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে নিয়মিত ভিডিয়ো তৈরি করে সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করেন তিনি। সম্প্রতি সীমান্তে কাঁটাতার স্থাপন এবং অনুপ্রবেশের বিষয় নিয়ে তাঁর তৈরি একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়। অভিযোগ, ওই ভিডিয়োয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আক্রমণ করতে গিয়ে কুরুচিকর ও অশালীন শব্দ ব্যবহার করেন মুসু। ভিডিয়োটি ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে চাঁচল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। অভিযোগ দায়েরের খবরও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল।
অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরে ওই কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানা গিয়েছে। তাঁকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় চাঁচল থানার সামনে জড়ো হন বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা। অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবিতে তাঁরা বিক্ষোভও দেখান। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, ভিডিয়োয় ব্যবহৃত বক্তব্য শুধু ওই তরুণীর ব্যক্তিগত মতামত না-ও হতে পারে। এর পিছনে অন্য কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের প্ররোচনা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে দল। যদিও এমন কোনও বৃহত্তর যোগসূত্রের প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। স্থানীয় বিজেপি নেতা সন্দীপ পাণ্ডের বক্তব্য, আগে ওই কনটেন্ট ক্রিয়েটর সাধারণ বিষয় নিয়ে ভিডিয়ো তৈরি করতেন। সম্প্রতি তাঁর বক্তব্যের ধরন বদলে গিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। কী কারণে এই পরিবর্তন এবং ভিডিয়োটি তৈরির পিছনে অন্য কারও ভূমিকা ছিল কি না, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ওই নেতা।
পুলিশ সূত্রের খবর, ভিডিয়োটি কোথায় এবং কখন তৈরি হয়েছিল, কারও নির্দেশে তা প্রকাশ করা হয়েছিল কি না এবং বক্তব্যের মাধ্যমে কোনও গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা বা বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা হয়েছে কি না—সেসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তের সমাজমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট এবং সংশ্লিষ্ট ভিডিয়োর প্রচারের বিষয়টিও তদন্তকারীরা পরীক্ষা করতে পারেন। তবে অভিযোগের বিচার এখনও আদালতে হয়নি। ফলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অভিযুক্তকে দোষী হিসেবে গণ্য করা যায় না। তাঁর বিরুদ্ধে কোন কোন আইনি ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।






