‘খ্যাতি বাড়তেই কি স্মৃতিশক্তি লোপ পেল?’ চ্যাট বিতর্কের মাঝে গৌরবের পুরনো বন্ধুদের নিশানায় ইউটিউবার
একটা সময়ে ‘বন্ধু’ অন্তরা দের সঙ্গে গৌরব তপাদারের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল, যা তাঁদের পরিচিত মহলে কারও অজানা নয়।
Truth of Bengal: ‘প্রেতকথা’ খ্যাত জনপ্রিয় ইউটিউবার তথা সোশাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সর গৌরব তপাদারের চ্যাট ফাঁস বিতর্ক নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে নেটদুনিয়া তোলপাড়। এই সংবেদনশীল ইস্যুতে নেটিজেনরা স্পষ্ট দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। কেউ যেমন গৌরবের সমর্থনে সওয়াল করছেন, কেউ আবার তাঁকে সরাসরি ‘ক্রিমিনাল’ তকমা দিতেও ছাড়ছেন না। এই চরম বিতর্কের মাঝেই এবার স্মৃতির পাতা উলটে গৌরবের অতীত জীবনের বেশ কিছু গোপন তথ্য ফাঁস করেছেন তাঁরই এক সময়ের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ওই যুবকের দাবি, ২০১৭-১৮ সালে, অর্থাৎ আজকের এই বিপুল পরিচিতি ও খ্যাতি পাওয়ার আগে গৌরব নাকি তাঁর প্রাক্তন প্রেমিকা অন্তরার ওপর মানসিকভাবে সম্পূর্ণ নির্ভরশীল ছিলেন। এমনকি কলকাতার পাটুলির চায়ের আড্ডায় বসে হাত পেতে চা-সিগারেটের টাকা এবং গিটারের অনুষ্ঠানে যাওয়ার মেট্রোর ভাড়াও নাকি ওই প্রাক্তনই দিতেন!
একটা সময়ে ‘বন্ধু’ অন্তরা দের সঙ্গে গৌরব তপাদারের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল, যা তাঁদের পরিচিত মহলে কারও অজানা নয়। তবে পরবর্তীতে তাঁদের সম্পর্কে দূরত্ব বাড়ে এবং বিচ্ছেদের পর গৌরব নতুন সম্পর্কে জড়ান। তিনি বিয়ে করেন নৃত্যশিল্পী প্রিয়াঙ্কা তপাদারকে। তবে বিয়ের বছর দুয়েক কাটতে না কাটতেই এই পুরোনো চ্যাট ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম আইনি ও সামাজিক বিড়ম্বনায় পড়েছেন গৌরব। প্রাক্তনের পোস্ট করা স্ক্রিনশট অনুযায়ী অভিযোগ, বিয়ের পর ও গৌরব নাকি অন্তরাকে মেসেজ করে জানিয়েছিলেন যে তিনিই তাঁর ‘প্রথম স্ত্রী’। এমনকি তাঁকে বেশ কিছু আপত্তিকর ও অশালীন প্রস্তাব দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। অবশ্য গৌরব এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেননি, বরং আত্মপক্ষ সমর্থন করে গোটা ঘটনাটিকে ‘খারাপ মদ খাওয়ার জের’ বলে দাবি করেছেন এবং উলটে প্রাক্তনকেই নিশানা করেছেন। এই যুক্তিকে কেন্দ্র করে সোশাল মিডিয়ায় তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, মদ্যপ অবস্থায় প্রাক্তনকে মেসেজ করাটা অপরাধ নয়, বরং তা নিয়ে জলঘোলা করে অন্তরা আসলে পরিচিতি পাওয়ার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, একাংশের দাবি— এটি অত্যন্ত বিকৃত ও অপরাধমূলক মানসিকতার পরিচয়।
এই হাই-প্রোফাইল চ্যাট বিতর্কের মাঝে মুখ খুলতে শুরু করেছেন গৌরব ও অন্তরার দীর্ঘদিনের পুরনো বন্ধুরা। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশেরই স্পষ্ট অবস্থান এখন অন্তরার পক্ষে। বিচ্ছেদের সময় অন্তরার সঙ্গে হওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ জানিয়ে এক বন্ধু লিখেছেন, “যখন তোমাকে ‘প্রত্যাশা’ ব্যান্ড থেকে লাথি মেরে বের করা হয়েছিল, তখন পাশে তো এই অন্তরাই ছিল। আজ গৌরব তপাদারকে আমরা জিরো থেকে হিরো হতে দেখেছি, তাই এতটাও বেইমান হয়ে যেও না। উপরওয়ালা ক্ষমা করবে না। আগেই বুঝেছিলাম তুমি কতটা বিষাক্ত!” অন্য আরেক বন্ধু লিখেছেন, “আমি কেন অন্তরাকে সাপোর্ট করছি? ২০১৭-১৮ সালের গল্পে গেলাম না, কারণ ওই কষ্টকর গল্পটা কেউ বলে না।” আবার কেউ কেউ খোঁচা দিয়ে লিখেছেন যে, খ্যাতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গৌরবের পুরনো দিনের স্মৃতিশক্তি লোপ পেয়েছে। সব মিলিয়ে সোশাল মিডিয়ায় এই মুহূর্তে তীব্র কাঠগড়ায় ‘প্রেতকথা’র গৌরব। যদিও পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল ও স্পর্শকাতর হয়ে উঠলেও, গৌরব নিজে অবশ্য বিষয়টিকে সামাজিক মাধ্যমে রীতিমতো রসিকতা ও মজার ছলেই সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।


